28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইলেকশন সূচি ঘোষণার পর আটটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে

ইলেকশন সূচি ঘোষণার পর আটটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকায়, রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বাড়ছে। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষিত হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে আটটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে গুলিবিদ্ধ করা এবং জনাকীর্ণ এলাকায় আক্রমণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক হিংসা আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শারিফ ওসমান বিন হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ থেকে স্বাধীন সংসদীয় প্রার্থীরূপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তি, গত বুধবার রাতে এক গুলিবিদ্ধ আক্রমণের শিকার হন। তার ওপর আক্রমণের পর সরকার ১৩ ডিসেম্বর থেকে জুলাই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এবং উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দুক লাইসেন্স জারি করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।

তবে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের হার কমেনি। আইন ও সলিশ কেন্দ্র ও বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বরের পর থেকে মোট আটটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলি দেশের বিভিন্ন অংশে ঘটেছে এবং লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে স্বাধীন প্রার্থী, পার্টি নেতা ও কর্মী অন্তর্ভুক্ত।

মানবাধিকার সমর্থন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত ৬০টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে চারজন নিহত এবং ৫২৮ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে, নেতা ও কর্মীদের ওপর আক্রমণ ১০ বার ঘটেছে, যার ফলে মোট দশজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে তিনজন, বিএনপি থেকে চারজন এবং জামায়াতে ইসলামের থেকে একজন নিহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা এই বাড়তে থাকা হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন উল্লেখ করেন যে, বর্তমান হিংসার দুটি স্পষ্ট প্রবণতা রয়েছে: রাজনৈতিক দলীয় নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর আক্রমণ। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতের ঢাকার সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে আইন ও শৃঙ্খলার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।

লিটন সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেন এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এছাড়া সমাজে বাড়তে থাকা গোষ্ঠীমূলক হিংসা, যা প্রায়শই ভিড়ের মধ্যে ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা না দেখার দিকে ইঙ্গিত করেন।

এই পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভয় ও অনিশ্চয়তা ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে কমিয়ে দিতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন এবং হিংসা দমনকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি, যাতে নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments