যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি ৫ তারিখে শৈশব টিকাদান সূচিতে বৃহত্তম পরিবর্তন আনছে। সরকারী তালিকায় কিছু টিকাদানকে “শেয়ার্ড ক্লিনিক্যাল ডিসিশন মেকিং” (সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ) হিসেবে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে, যার ফলে হেপাটাইটিস এ, রোটাভাইরাস এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টিকাদান পূর্বে সর্বজনীনভাবে সুপারিশকৃত থেকে এখন ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা ভিত্তিক হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিবর্তনটি মূলত টিকাদানের সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট সমঝোতা না থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপের পরামর্শ দেয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিকাগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সুস্পষ্ট এবং কোনো নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়নি। ফলে টিকা নীতি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ বাড়তে পারে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, শেয়ার্ড ক্লিনিক্যাল ডিসিশন মেকিংয়ের মাধ্যমে টিকাদানকে অনিশ্চয়তার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা বিজ্ঞানগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যদিও বাস্তবে তা নেই। তিনি বলেন, এই ধরণের পরিবর্তন টিকা নীতি প্রণয়নে নতুন দিক উন্মোচন করে, তবে তা বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তার ভিত্তিতে নয়।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি ঐতিহ্যবাহী টিকা সূচি আপডেট প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত টিকা সূচি পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা এবং অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিস (ACIP) এর সুপারিশ প্রয়োজন হয়। তবে এইবার সেই উন্মুক্ত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব সৃষ্টি করেছে।
ফিলাডেলফিয়া শিশু হাসপাতালের ভ্যাকসিন শিক্ষা কেন্দ্রের সহ-পরিচালক এবং পেডিয়াট্রিক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ লরি হ্যান্ডি বলেন, নতুন প্রমাণের অভাবে টিকাদানকে কম সুপারিশযোগ্য করা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে রোগের ঝুঁকি বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বৈজ্ঞানিক ডেটা না দিয়ে টিকা সূচি পরিবর্তন করা স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য অনুকূল নয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে টিকা নীতি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমঝোতার দিকে নিয়ে যাবে, তবে বিশদ ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। টিকাদান সূচির এই পুনর্বিন্যাসের ফলে পিতামাতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে টিকা গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন টিকা নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব থাকে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, পিতামাতা ও অভিভাবকদের উচিত ডাক্তারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গড়ে তোলা। এছাড়া, টিকা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরকারি নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
টিকা নীতি পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে টিকা গ্রহণের হার এবং রোগের বিস্তার কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে, হেপাটাইটিস এ, রোটাভাইরাস এবং ফ্লু টিকা এখনও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর এবং নিরাপদ বলে স্বীকৃত। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করে যথাযথ টিকাদান পরিকল্পনা করা সর্বোত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টিকা নীতি ও জনস্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর উচিত স্বচ্ছতা বজায় রেখে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করা। পিতামাতা ও সাধারণ জনগণকে টিকা সংক্রান্ত তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা জরুরি, যাতে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ ও ভুল ধারণা দূর করা যায়।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন টিকা সূচি পরিবর্তন হেপাটাইটিস এ, রোটাভাইরাস এবং ফ্লু টিকাকে “শেয়ার্ড ক্লিনিক্যাল ডিসিশন মেকিং” হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা টিকা নীতি প্রক্রিয়ার ঐতিহ্যবাহী বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তা তৈরি করার রূপে দেখছেন এবং শিশু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন। পিতামাতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে টিকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।



