বাংলাদেশের লেগ স্পিনার হিসেবে আলিস আল ইসলামকে জাতীয় দলের দরজায় আনতে কোচ মিকি আর্থার ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ের উন্নতি দাবি করছেন। বিশ্বমানের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের পরে দেশের টি-টোয়েন্টি দলে রহস্যময় স্পিনারের ঘাটতি পূরণে আলিসের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তবে তার শারীরিক অবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আলিস দুই বছর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আলো ছড়িয়ে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে স্থান পেয়েছিলেন, তবে দলে যোগদানের আগেই আঙুলের চোটে ভুগে জাতীয় দলের স্বপ্ন থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। সেই চোটের পরেও তিনি বিপিএলে চমক দেখিয়ে চিটাগং কিংসের হয়ে ১৫টি উইকেট নেন এবং ওভারপ্রতি ৬.৩২ রান দিয়ে গড়ে তুলেছেন। তবে সিজনের শেষের দিকে হাঁটুর গুরুতর চোট তাকে দীর্ঘ বিশ্রামকালে পাঠায়।
চোটের পর কোথায় অস্ত্রোপচার হবে—বাংকক নাকি ভারত—এ নিয়ে বিতর্কের পর মে মাসে মালয়েশিয়ায় শেষ পর্যন্ত শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন হয়। তিন সপ্তাহের সম্পূর্ণ বিশ্রামের পর পুনর্বাসন প্রোগ্রাম শুরু হয়, এবং দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ার পর তিনি আবার মাঠে ফিরে আসেন। শল্যচিকিৎসার পরের বিপিএলে তিনি প্রায় এক বছর অনুপস্থিত ছিলেন, তবে ফিরে এসে রংপুর রাইডার্সের হয়ে পাঁচটি ম্যাচে অংশ নিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন এবং ওভারপ্রতি ৬.৭৮ রান দিয়ে গড়ে তুলেছেন।
মিকি আর্থার, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশিষ্ট কোচ, আলিসের পারফরম্যান্সের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন। তিনি ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনারের দক্ষতাকে ‘অবিশ্বাস্য’ ও ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেন এবং তাকে জাতীয় দলের সম্ভাব্য পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধুমাত্র বোলিংই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়; ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে উৎকৃষ্ট হতে হবে। “একজন খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে হলে অন্তত দুইটি বিভাগে শীর্ষে থাকতে হয়, কোনো একটি দিয়ে চলা যায় না,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
আলিসের শারীরিক অবস্থা, বিশেষ করে তার হাঁটুর চোট, এখনও ফিল্ডিংয়ে প্রভাব ফেলছে। কোচের মতে, এই সমস্যার সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার পারফরম্যান্সে বাধা আসতে পারে। তাই ফিটনেসের ওপর জোর দিয়ে তিনি আলিসকে আরও কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে এবং ফিল্ডিং দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করছেন।
আলিসের বিপিএল ক্যারিয়ার সাত বছর আগে শুরু হয়, যখন তিনি প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ চারটি উইকেট নিয়ে সবাইকে বিস্মিত করেন। সেই থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, যদিও চোটের কারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বর্তমান সময়ে তার শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং ফিল্ডিং উন্নয়নই তার জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির চাবিকাঠি।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে লেগ স্পিনারের ঘাটতি পূরণে আলিসের মতো তরুণ খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তবে কোচের নির্দেশনা অনুসারে ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে উন্নতি না করলে তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে না। আগামী বিপিএল মৌসুমে তার পারফরম্যান্স এবং শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে, তা নির্ধারণ করবে তিনি জাতীয় দলের নির্বাচনে কতটা স্থান পেতে পারেন।



