হলিউডের স্ব-সন্দেহপূর্ণ দিককে মঞ্চে তুলে ধরতে ন্যাশনাল ল্যাম্পুন নতুন ফিচার চলচ্চিত্র ‘হলিউড হাস্টল’ প্রকাশ করেছে। ছবিটি নিক ক্যনন, অ্যালেক বাল্ডউইন ও মিকি রৌর্কে‑সহ একাধিক পরিচিত তারকারা নিজের অতীতের ছাপকে অতিরঞ্জিত করে অভিনয় করছেন। চলচ্চিত্রটি লস এঞ্জেলেসে শুট করা হয়েছে এবং লস ভেগাস ও স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপেও দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ল্যাম্পুনের দীর্ঘদিনের কমেডি ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই প্রকল্পটি উদ্যোগী হয়েছে। ‘হলিউড হাস্টল’ শিরোনামটি শিল্পের নিজস্ব বিশৃঙ্খলা ও স্ক্যান্ডালকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। চলচ্চিত্রটি স্ব-সন্দেহপূর্ণ রসিকতা ও মেটা-হিউমারকে মিশ্রিত করে, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের অতীতের বিতর্কিত ঘটনাকে কল্পনাপ্রসূত চরিত্রে রূপান্তরিত করছেন।
ক্যাস্টের মধ্যে রয়েছে নিক ক্যনন, যিনি ছবিতে এক শক্তিশালী এজেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করবেন; অ্যালেক বাল্ডউইন, যাকে একটি পতনশীল প্রোডাকশনের মুখ্য তারকা হিসেবে দেখানো হয়েছে; এবং মিকি রৌর্কে, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে গফান্ডমি তহবিল সংগ্রহের বিশৃঙ্খলায় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তদুপরি, টারা রিড, ড্যানি ট্রেজো, টিল শ্ভাইগার, ক্যারট টপ এবং প্যাট্রিক ওয়ারবার্টনও ছবিতে উপস্থিত, প্রত্যেকে নিজেদের অতিরঞ্জিত সংস্করণে উপস্থিত।
মিকি রৌর্কের ক্ষেত্রে, তার গফান্ডমি তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন ছবির কাহিনীতে স্পষ্ট, যেখানে একটি প্রোডাকশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং প্রধান চরিত্রগুলোকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে প্রকল্পটি রক্ষা করতে হয়। রৌর্কের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছবির স্যাটায়ারকে অতিরিক্ত তীক্ষ্ণতা প্রদান করেছে।
চিত্রনাট্যটি মাইক হ্যাটন পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যেখানে তিনি পল স্লোয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে স্ক্রিপ্ট রচনা করেছেন। হ্যাটন ছবিতে এক স্বাধীন প্রোডিউসারের ভূমিকায় উপস্থিত, যিনি অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকটে পড়ে। স্লোয়ান, যিনি একসময় জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নায়ক ছিলেন, তার চরিত্রটি হ্যাটনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে, দুজনই লস এঞ্জেলেসের ব্যস্ত রাস্তায় তাড়া-ধাওয়া করে প্রোডাকশনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।
প্রোডাকশন টিম বাস্তব লস এঞ্জেলেসের লোকেশন ব্যবহার করে মেটা-অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, যেখানে ক্যামেরা শহরের পরিচিত স্থানে দৃশ্য ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শুটিং দল লস ভেগাসের আলোকিত রাস্তায় এবং স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপের সমুদ্রতটে দৃশ্য রেকর্ড করেছে, যা ছবির আন্তর্জাতিক মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। সাউন্ডট্র্যাকের জন্য বিশেষ সঙ্গীত রচনা করা হয়েছে, যদিও সঙ্গীতের বিশদ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
চলচ্চিত্রের স্বরভঙ্গি স্ব-সন্দেহপূর্ণ হাস্যরস ও শিল্পের আত্ম-সমালোচনার মিশ্রণ। অভিনেতারা নিজেদের অতীতের স্ক্যান্ডালকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন, ফলে স্যাটায়ার ও আত্মপ্রকাশের সীমা ম্লান হয়ে যায়। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে যে, ছবিটি হালকা মেজাজের রসিকতা নাকি শিল্পের অন্ধকার দিকের এক কঠোর চিত্র।
দর্শকরা ছবিটিকে দু’ধরনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারেন: একদিকে এটি হলিউডের অস্বাভাবিকতা ও আত্ম-আলোচনার মজার উপস্থাপন, অন্যদিকে এটি শিল্পের নিজস্ব সমস্যার গম্ভীর প্রতিফলন। রৌর্কের বাস্তবিক সমস্যার উপস্থিতি ছবির স্যাটায়ারকে অতিরিক্ত বাস্তবতা প্রদান করেছে, যা ন্যাশনাল ল্যাম্পুনের পূর্বের কাজের তুলনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
‘হলিউড হাস্টল’ ন্যাশনাল ল্যাম্পুনের ফিচার চলচ্চিত্রে পুনরায় প্রবেশের সংকেত বহন করে এবং শিল্পের স্ব-সন্দেহপূর্ণ দিককে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চায়। চলচ্চিত্রটি হালিউডের ভেতরে ভেতরে চলমান আর্থিক ও সুনাম সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে মঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি, তারকা-তারকারা নিজেদের অতীতের বিতর্ককে স্বীকার করে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মেটা-কমেডি দর্শকের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া জাগাবে তা সময়ই বলবে।



