28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের রাজধানী তেহরান ও মাশহাদে বিশাল বিরোধী-সরকারি প্রতিবাদে প্রাণহানি ও গ্রেপ্তার

ইরানের রাজধানী তেহরান ও মাশহাদে বিশাল বিরোধী-সরকারি প্রতিবাদে প্রাণহানি ও গ্রেপ্তার

ইরানের রাজধানী তেহরান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বিশাল প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর বুধবার দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি শহরে সহিংস সংঘর্ষে রক্তপাত ও গ্রেপ্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরান ও মাশহাদের দৃশ্যবলী বিবিসি পার্সিয়ান দ্বারা যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, যেখানে demonstrators নিরাপদে সড়ক দখল করে সশস্ত্র বাহিনীর হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হয়নি।

বুধবারের দিন বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রক্তপাতের খবর ছড়িয়ে পড়ে, কিছু এলাকায় গুলিবর্ষণ ও গ্যাস ব্যবহার করা হয়। মাশহাদের ভিড় স্পষ্টভাবে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি উচ্ছেদ ও শাহী পরিবারের এককন্যা রেজা পাহ্লাভির প্রত্যাবর্তনের দাবি জানায়, যিনি তার সমর্থকদের রাস্তায় নামতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই প্রতিবাদটি ধারাবাহিকভাবে বারোতম দিন চলমান, এবং মানবাধিকার সংস্থা HRANA অনুযায়ী ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৪০টি শহর ও গ্রামে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন প্রতিবাদকারী এবং সাতজন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, আর ২,২৭০ জনেরও বেশি demonstrators গ্রেপ্তার হয়েছে।

নরওয়ে ভিত্তিক Iran Human Rights সংস্থা আরও উচ্চতর মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়েছে; তাদের মতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪৫ জন প্রতিবাদকারী, যার মধ্যে আটজন শিশু, নিহত হয়েছে। বিবিসি পার্সিয়ান ২১ জনের পরিচয় ও মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, আর ইরানি সরকার পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবাদের সূচনা ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানের বাজারে দোকানদাররা রিয়ালের তীব্র পতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। রিয়াল ডলার বিপরীতে রেকর্ড নিম্ন স্তরে পৌঁছায়, যা দেশের মুদ্রা বাজারে বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করে। একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতি ৪০% অতিক্রম করে, যা নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বিশেষত পারমাণবিক প্রোগ্রামের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, ইরানের অর্থনীতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাছাড়া, সরকারী দুর্নীতি ও নীতি ব্যর্থতা মুদ্রা সংকটকে তীব্রতর করেছে, ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দুজনেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

বাজারের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত যোগদান করে, তারা রাস্তায় নেমে সরকারী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান গুঞ্জন করে। তরুণদের এই অংশগ্রহণ প্রতিবাদের ভৌগোলিক ও সামাজিক বিস্তৃতি বাড়িয়ে দেয়, এবং শহর-শহরে সমন্বিত প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধারাবাহিক প্রতিবাদ সরকারকে কঠিন রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। সুপ্রিম লিডারের ক্ষমতা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, এবং রেজা পাহ্লাভির মতো বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন ও অতিরিক্ত গ্রেপ্তার পরিস্থিতি আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

অবশ্যই, ইরানের সরকার এই প্রতিবাদকে দমন করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন পরিস্থিতি তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ভবিষ্যতে, যদি অর্থনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকে এবং রাজনৈতিক চাহিদা পূরণ না হয়, তবে প্রতিবাদের তীব্রতা ও পরিসর বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments