কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া গন্তব্যে যাত্রারত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে। হামলা বুধবারের সন্ধ্যায় ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষে কেন্দ্রীভূত হয় এবং কোনো নাবিক আহত হয়নি। তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি।
হামলার পর ট্যাংকারটি তুরস্কের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে সহায়তা চায় এবং দ্রুতই তার রুট পরিবর্তন করে পুনরায় গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হয়। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং রুট পরিবর্তনের পর টার্কি উপকূলের ইনেবোলু বন্দরের কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
আক্রমণটি ‘মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোন’ ব্যবহার করে চালানো হয় বলে সংস্থা জানায়, তবে দায়ী কারা তা স্পষ্ট নয়। পূর্বে নভেম্বর ২০২৩-এ ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ড্রোন দ্বারা রাশিয়ার দিকে যাত্রা করা ট্যাংকারে আঘাতের পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ বীমার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই সময় মস্কো আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী হুমকি জানিয়েছিল, আর আঙ্কারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।
ডিসেম্বরে আরেকটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও একই সাগরে আক্রমণের শিকার হওয়ার দাবি করা হয়, তবে কিয়েভের সরকার এই অভিযোগে অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এই নতুন হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। রাশিয়ার আঙ্কারায় নিযুক্ত দূতাবাসও এই ঘটনার ওপর কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্ববাজারে শস্য, তেল ও তেলজাত পণ্যের পরিবহনের জন্য কৃষ্ণ সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার জলসীমা তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে ভাগ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাণিজ্যিক নৌচালানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ড্রোনের ব্যবহার জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলছে এবং বীমা খরচের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
মারিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ট্যাংকারটি তুর্কি উপকূলের নিকটে অবস্থান করলেও কোনো ত্রুটি বা তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি, ফলে পরিবেশগত ক্ষতি সীমিত হয়েছে। তবে এই ধরনের আক্রমণ নৌবাহিনীর রুট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলা কেবল একক ঘটনা নয়, বরং অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তনের সূচক।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে, তুরস্ক ও রাশিয়া উভয়ই এই ঘটনার পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তুর্কি সরকার ট্যাংকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে এবং রুট পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে, যাতে জাহাজটি নিরাপদে রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছাতে পারে। রাশিয়া পক্ষ থেকে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে উল্লেখিত হুমকি ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষ্ণ সাগরে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচালনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সংলাপকে তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন ও ব্যবহার নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য থাকে।



