নোয়া বাউম্ব্যাচের নতুন নেটফ্লিক্স ড্রামা‑কমেডি ‘জে কেলি’ ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গ্লোবাল চলচ্চিত্র তারকা জে কেলির (গিয়র্গ ক্লুনি) জীবনের অন্ধকার মুহূর্ত ও পুনরুজ্জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি বাউম্ব্যাচের সাম্প্রতিক কাজ ‘হোয়াইট নোয়েজ’ পরবর্তী সৃজনশীল সংকটের পর গঠিত হয়েছে এবং পুরনো ক্লাসিক চলচ্চিত্রের প্রেরণায় গড়ে উঠেছে। শুটিং চলাকালীন দলটি ‘মুভি চার্চ’ নামে একটি অভ্যাস অনুসরণ করে, যেখানে বাউম্ব্যাচ দলকে এমন চলচ্চিত্র দেখান যা তার নতুন কাজের থিম বা শৈলীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘হোয়াইট নোয়েজ’ মুক্তির পর বাউম্ব্যাচ সিনেমার প্রতি তার আগ্রহে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা তাকে নতুন দৃষ্টিকোণ খুঁজতে বাধ্য করে। এই সময়ে গিয়র্গ ক্লুনি সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাকে সৃজনশীলভাবে পুনরুজ্জীবিত করে। ক্লুনির অভিজ্ঞতা ও তারকাদের জগতে থাকা বাস্তবতা বাউম্ব্যাচের গল্প বলার পদ্ধতিতে নতুন রঙ যোগ করে।
শুটিংয়ের সময় বাউম্ব্যাচ দলকে ‘মুভি চার্চ’ সেশনে একত্রিত করে, যেখানে তিনি পুরনো চলচ্চিত্রের ক্লিপ দেখিয়ে দলের মনোভাব গঠন করেন। এই সেশনে তিনি প্রেস্টন স্টার্জের ১৯৪১ সালের ‘সুলিভান্স ট্রাভেলস’ এবং ইনগমার বার্গম্যানের ১৯৫৭ সালের ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ প্রদর্শন করেন। উভয় চলচ্চিত্রই শিল্পের স্বভাব ও ব্যক্তিগত আত্মপর্যালোচনার বিষয়কে স্পর্শ করে, যা ‘জে কেলি’র মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘জে কেলি’তে গিয়র্গ ক্লুনি ৬০‑এর দশকের একজন বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র তারকা জে কেলি চরিত্রে অভিনয় করেন। জে কেলি তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকলেও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতায় ভুগছেন। তিনি তার পিতা (স্টেসি কীচ) এবং বড় মেয়ে জেসিকা (রাইলি কিউ) থেকে দূরে সরে গেছেন, আর ছোট মেয়ে ডেইজি (গ্রেস এডওয়ার্ডস) ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চলচ্চিত্রের মূল সংঘাতের সূত্রপাত হয় জে কেলির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দুই ঘটনার মাধ্যমে। প্রথমটি হল সেই পরিচালক (জিম ব্রডবেন্ট) এর অপ্রত্যাশিত মৃত্যু, যিনি জে কেলিকে তার বড় সুযোগ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়টি হল তার পুরনো অভিনয় বিদ্যালয়ের বন্ধু টিমোথি (বিলি ক্রুডাপ) সঙ্গে পোস্ট‑ফিউনারাল মুখোমুখি হওয়া, যা তার অতীতের স্মৃতি উন্মোচন করে।
ইতালির একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব জে কেলিকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে। এই স্বীকৃতি তাকে ইউরোপ জুড়ে ডেইজির সন্ধানে বেরিয়ে পড়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের এজেন্ট রন সুকেনিক (অ্যাডাম স্যান্ডলার) এর সঙ্গে যাত্রা শুরু করেন। পুরস্কারটি জে কেলির জন্য পারিবারিক বন্ধন পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হয়ে ওঠে।
যাত্রাপথে জে কেলি এবং রন সুকেনিক ইউরোপের বিভিন্ন শহরে থেমে তার পরিবারকে একত্রিত করার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার মধ্যে জে কেলির অতীতের সিদ্ধান্ত, ত্যাগ এবং অমীমাংসিত সম্পর্কের ছায়া ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি নিজের জীবনের মূল্যায়ন করতে বাধ্য হন, ঠিক যেমন বার্গম্যানের ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ এ প্রধান চরিত্র তার স্মৃতির মুখোমুখি হয়।
‘জে কেলি’তে বাউম্ব্যাচ চলচ্চিত্র শিল্পের উজ্জ্বলতা ও তারকাদের দ্বিমুখী অস্তিত্বকে একসাথে উপস্থাপন করেন। গ্লোবাল তারকারা পাবলিক চিত্র ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে সংগ্রাম করে, যা চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় থিম। বাউম্ব্যাচের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দ্বন্দ্বটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, শিল্পের সামগ্রিক সংকটের প্রতিফলনও বটে।
চিত্রনাট্যটি জে কেলির আত্ম-পর্যালোচনার মাধ্যমে দর্শকদেরকে নিজের জীবনের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানায়। বাউম্ব্যাচের মতে, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমরা অতীতের ভুলগুলোকে স্বীকার করে ভবিষ্যতের পথে নতুন দৃষ্টিকোণ গড়ে তুলতে পারি। এই দৃষ্টিকোণ ‘মুভি চার্চ’ সেশনের মাধ্যমে দলের মধ্যে ভাগ করা হয়, যা শুটিংয়ের সময় সৃজনশীল শক্তি বাড়িয়ে তুলেছে।
‘জে কেলি’র মুক্তি পরবর্তী সপ্তাহে দর্শক ও সমালোচক উভয়ই চলচ্চিত্রের গভীর থিম ও ক্লুনির অভিনয়কে প্রশংসা করেছেন। বাউম্ব্যাচের কাজটি তার পূর্ববর্তী চলচ্চিত্রের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্লেষণমূলক এবং শিল্পের প্রতি তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। এই চলচ্চিত্রটি গ্লোবাল তারকাদের মানবিক দিককে তুলে ধরার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি রিফ্লেকশন টুল হিসেবে কাজ করে।
সারসংক্ষেপে, নোয়া বাউম্ব্যাচের ‘জে কেলি’ গ্লোবাল তারকাদের ব্যক্তিগত সংকট, পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের পুনর্জন্মের গল্পকে একত্রে বুনে একটি সমৃদ্ধ বর্ণনা তৈরি করেছে। ক্লুনির চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা আধুনিক তারকারা কীভাবে নিজের পরিচয় ও ক্যারিয়ারকে সামঞ্জস্য করতে চায় তা দেখতে পাবেন। এই চলচ্চিত্রটি বাউম্ব্যাচের জন্য একটি নতুন সৃজনশীল সূচনা, যা তাকে পুনরায় সিনেমার প্রতি তার প্রেম পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করেছে।



