NSO গ্রুপ, যা সরকারী স্পাইওয়্যার তৈরির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, বুধবার একটি স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানি এটিকে “দায়িত্বশীলতার নতুন পর্যায়” বলে উল্লেখ করেছে, তবে পূর্বের বার্ষিক প্রকাশনার তুলনায় গ্রাহক প্রত্যাখ্যান, তদন্ত, স্থগিত বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে চুক্তি বাতিলের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।
প্রতিবেদনটি মানবাধিকার সম্মান ও গ্রাহকদের ওপর সমান নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে সমর্থনকারী কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকরা মনে করেন, এই প্রতিবেদনটি NSO-কে যুক্তরাষ্ট্রের এন্টিটি লিস্ট (Entity List) থেকে সরিয়ে ফেলতে এবং নতুন আর্থিক সমর্থন ও নেতৃত্বের সঙ্গে মার্কিন বাজারে প্রবেশের প্রচেষ্টার অংশ।
গত বছর একটি আমেরিকান বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী কোম্পানির শেয়ার অর্জন করে, যা থেকে NSO-র কাঠামোতে বড় পরিবর্তন শুরু হয়। এই পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতৃত্বের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত: প্রাক্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ডেভিড ফ্রাইডম্যানকে নতুন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়, সিইও ইয়ারন শোহাট পদত্যাগ করেন, এবং প্রতিষ্ঠাতা ওমরি লাভি, যিনি শেষ পর্যন্ত কোম্পানিতে সক্রিয় ছিলেন, তাও চলে যান। এই তথ্যগুলো ইসরায়েলি সংবাদপত্র হেয়ারেটজের রিপোর্টে উল্লেখিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের স্বাক্ষরে ফ্রাইডম্যান লিখেছেন, “যখন NSO-র পণ্য সঠিক দেশ ও সঠিক হাতে থাকে, তখন বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়। এটাই আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।” তবে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অপারেশনাল ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়নি, যা পূর্বের প্রকাশনায় দেখা গিয়েছিল না।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা Access Now-র সিনিয়র টেক-লিগ্যাল কাউন্সেল নাতালিয়া ক্রাপিভা জানান, NSO স্পষ্টতই এন্টিটি লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা এবং কোম্পানির কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে একটি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করা এই প্রচেষ্টার দুটি মূল দিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুতে গ্রাহক প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের ফলাফল বা সরঞ্জাম ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তথ্যের অভাব, কোম্পানির দায়িত্বশীলতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের এন্টিটি লিস্টে থাকা অবস্থায় NSO-র আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপিত থাকে, যা মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথে বড় বাধা।
NSO গ্রুপের নতুন আর্থিক সমর্থক ও নেতৃত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও, স্বচ্ছতা প্রতিবেদনটি মানবাধিকার সংরক্ষণে কীভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র নীতি ও প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে, তবে বাস্তবায়নযোগ্য মেকানিজম বা তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো বিবরণ দেয় না।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো NSO-কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতি মূল্যায়ন করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি সমন্বয় করা যায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে কোম্পানির তালিকাভুক্তি পুনর্বিবেচনা করার সময় মানবাধিকার রক্ষার দিকটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, NSO গ্রুপের নতুন স্বচ্ছতা প্রতিবেদন দায়িত্বশীলতার দাবি তুলে ধরলেও, বাস্তবিক তথ্যের ঘাটতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রমাণের অনুপস্থিতি এটিকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের লক্ষ্য এবং এন্টিটি লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রকৃত মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে।



