লংবো মটরস, যুক্তরাজ্যের একটি ইলেকট্রিক ভেহিকল স্টার্ট‑আপ, ২০২৬ সালের সিজিএস (কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো)-এ তার নতুন স্পিডস্টার মডেলটি ডোনাট ল্যাবের স্টল থেকে উপস্থাপন করেছে। এই গাড়িটি ডোনাট ল্যাবের উন্নত ইন‑হুইল মোটর ব্যবহার করে তৈরি, যা গাড়ির মোট ওজনকে মাত্র ২,২০০ পাউন্ডে সীমাবদ্ধ রাখে। একই ওজনের তুলনায়, বর্তমান হালকা রোডস্টার মাজার্ডি মিয়াটার চেয়ে ১০০ পাউন্ডের বেশি হালকা, ফলে পারফরম্যান্স ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
ডোনাট ল্যাব, যা ভের্জ মটরসাইকেলসের একটি স্পিন‑অফ, হাব‑লেস ইলেকট্রিক মোটর প্রযুক্তি দিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রন‑স্টাইলের নান্দনিকতা তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তি এখন স্কুটার থেকে শুরু করে হেভি‑ডিউটি ট্রাক পর্যন্ত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইলেকট্রিফিকেশন স্টার্ট‑আপগুলোর জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য একটি ভিত্তি গড়ে তুলবে। লংবো মটরসের স্পিডস্টার, ডোনাট ল্যাবের এই মডিউল ব্যবহার করে, বাজারে এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাস্তবায়নগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্পিডস্টার এবং রোডস্টার দুটোই উচ্চ পারফরম্যান্সের ইলেকট্রিক গাড়ি, তবে লংবো মটরস শুধুমাত্র স্পিডস্টারকে সিজিএস-এ প্রদর্শন করেছে। গাড়িটির ডিজাইন ক্লাসিক ও আধুনিকের সমন্বয়, যেখানে ছাদবিহীন কাঠামোটি ভিজ্যুয়াল সরলতা প্রদান করে। তবে এই ছাদবিহীন নকশা মানে গাড়িটিতে কোনো রেইন গার্ড বা উইন্ডস্ক্রিন নেই, ফলে কেবলমাত্র উন্মুক্ত বাতাসে ড্রাইভিং উপভোগ করতে ইচ্ছুক উত্সাহী ড্রাইভারদের জন্যই এটি উপযুক্ত।
গাড়ির অভ্যন্তরীণ অংশটি অত্যন্ত মিনিমালিস্টিক, যেখানে গেজ ক্লাস্টার এবং প্রধান নিয়ন্ত্রণ প্যানেলগুলো এখনও গোপন রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সরলতা গাড়ির মোট ওজন কমাতে সহায়তা করে, পাশাপাশি ড্রাইভারের মনোযোগকে সরাসরি রোডে কেন্দ্রীভূত করে।
লংবো মটরসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ডেভি এবং মার্ক ট্যাপসকট, যাঁরা টেসলা ও লুসিডে কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন, এবং জেনি কেইসু একসাথে গাড়ির নকশা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো নির্ধারণ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি ক্লাসিক রোডস্টার চেহারাকে আধুনিক ইলেকট্রিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে ঐতিহ্যবাহী গাড়িপ্রেমী এবং নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক ভেহিকল উত্সাহীরা উভয়ই আকৃষ্ট হন।
ডোনাট ল্যাবের ইন‑হুইল মোটর প্রযুক্তি গাড়ির চ্যাসিসে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ায়, ট্রান্সমিশন সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায় এবং গাড়ির গঠনমূলক দৃঢ়তা বাড়ে। এই পদ্ধতি গাড়ির সামগ্রিক দক্ষতা বাড়িয়ে দেয় এবং রেঞ্জ বৃদ্ধি করে, যদিও নির্দিষ্ট রেঞ্জ বা চার্জিং সময়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সিজিএস-এ ডোনাট ল্যাবের স্টলে স্পিডস্টারকে প্রদর্শন করা মানে, ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে ইন‑হুইল মোটরের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি স্কুটার, হালকা গাড়ি এবং বড় বাণিজ্যিক যানবাহনে প্রয়োগের মাধ্যমে ইলেকট্রিফিকেশনকে ত্বরান্বিত করতে পারে। লংবো মটরসের এই মডেলটি, যদিও এখনও বাজারে আসেনি, তবে তার হালকা ওজন, সরল নকশা এবং আধুনিক মোটর প্রযুক্তি ইলেকট্রিক গাড়ির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।
সারসংক্ষেপে, সিজিএস ২০২৬-এ লংবো মটরসের স্পিডস্টার ইভি ডোনাট ল্যাবের ইন‑হুইল মোটর দিয়ে তৈরি, ২,২০০ পাউন্ডের ওজনের সঙ্গে ক্লাসিক রোডস্টার চেহারার আধুনিক রূপ উপস্থাপন করেছে। গাড়িটি ছাদবিহীন, মিনিমালিস্টিক অভ্যন্তর এবং ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে এমন গেজ ক্লাস্টারসহ, ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে নতুন নকশা ও প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে।



