সিরাজগঞ্জ‑পাবনা রেলপথের ঈশ্বরদী সেকশনে বৃহস্পতিবার সকাল ও রাত দু’বার ফাটল দেখা দেয়; তিনটি সংযোগস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুইটি স্থানই দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এই রেললাইনটি যমুনা রেলসেতুর মাধ্যমে ঢাকা ও দেশের উত্তর‑দক্ষিণ অঞ্চলকে দৈনিক প্রায় ৩৮ জোড়া ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করে।
সকালবেলায় পাবনা জেলার দিলপাশার এলাকায় রেললাইনের একটি সংযোগস্থলে উপরের অংশে ফাটল ধরা পড়ে। রেলওয়ে প্রকৌশলীর তৎক্ষণাৎ নির্দেশে ক্ষতিটি সিল করা হয় এবং ট্রেন চলাচলে কোনো বাধা না রেখে কাজ শেষ করা হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ওই অংশে সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকে।
রাতের দিকে একই রেলপথের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং পাবনার মুলাডুলি এলাকায় অতিরিক্ত দুটি ফাটল উদ্ভাসিত হয়। উভয় স্থানে একই রকমের ক্ষতি দেখা যায়, যা রেলপথের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। রেলওয়ে কর্মীরা তৎক্ষণাৎ现场ে পৌঁছে, ফাটলগুলোকে সিল করার পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মুলাডুলি এলাকার ফাটল রাত ১০টার কাছাকাছি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়। উল্লাপাড়া অঞ্চলের ফাটল স্থানে কাজ চলমান থাকলেও, রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, রাতের শেষের দিকে সব কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো ট্রেনের চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি, কারণ মেরামত কাজগুলো ট্রাফিকের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এই রেললাইনটি যমুনা রেলসেতু পার হয়ে দেশের প্রধান রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন প্রায় ৩৮ জোড়া ট্রেন এই সেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রা করে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যাতায়াতের মূলধারায় অবদান রাখে। ফাটলগুলো রেলপথের নিরাপত্তা ও সময়সূচি উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।
স্থানীয় যাত্রী ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য এই রেললাইনটি দৈনন্দিন চলাচলের রক্তনালী। ফাটল মেরামতের সময়কালে ট্রেনের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন বা দেরি হতে পারে, তাই যাত্রীরা রেলওয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা উচিত। এছাড়া, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্মীদের সতর্কতা ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, উল্লাপাড়া স্থানে মেরামত কাজ রাতের শেষের দিকে সম্পন্ন হবে এবং রেললাইনটি পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাঠামোগত সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানো হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও সময়মত সেবা নিশ্চিত করার জন্য রেলওয়ে সবসময় প্রস্তুত।



