বুধবার লাস ভেগাসের CES-এ অ্যান্ডুরিলের সিইও পার্লার লাকি এবং রেডিটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সিস ওহানিয়ান একসাথে “প্রযুক্তি নস্টালজিয়া” শিরোনামে সেশন পরিচালনা করেন। উভয়ই পুরনো গ্যাজেটের নকশা, ব্যবহারিকতা ও অনুভূতিকে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরেন। তারা প্রযুক্তির মৌলিক কার্যকারিতা নয়, বরং তার চেহারা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন।
লাকি, যিনি ভিআর হেডসেট Oculus প্রতিষ্ঠা করে এখন অ্যান্ডুরিলের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে কাজ করছেন, এআই-কে কর্মপ্রবাহের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক এআই-র সুবিধা সত্ত্বেও, পুরনো ডিভাইসের নান্দনিকতা ও ব্যবহারিকতা অধিকতর মূল্যবান। তার মতে, প্রযুক্তি যতই অগ্রসর হোক, ব্যবহারকারীর হাতে থাকা পণ্যের আকার, টেক্সচার ও অনুভূতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওহানিয়ান, রেডিটের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠাতা, বলেন পুরনো পণ্যগুলো কেবল স্মৃতির বিষয় নয়, বরং বাস্তবে আরও ভাল। তিনি ১৯৯৯ সালের প্রথম‑ব্যক্তি শ্যুটার গেম “কুয়েক: আরেনা”কে উদাহরণ দিয়ে গেমিং ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ঐ সময়ের গেমের গতি, গ্রাফিক্স ও সাউন্ড ডিজাইন আজকের গেমের তুলনায় ভিন্ন হলেও, খেলোয়াড়ের মনোযোগ ও সন্তুষ্টি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তা অধিকতর কার্যকর ছিল।
লাকি অতীতের সঙ্গীত সংগ্রহের পদ্ধতিকে প্রশংসা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অ্যালবাম বা মিক্সটেপ তৈরি করার সময় যে উদ্দেশ্য, যত্ন ও পরিকল্পনা ছিল, তা আজকের অনন্ত ডাউনলোডের যুগে হারিয়ে যায়। ব্যবহারকারী নিজে ট্র্যাকের ক্রম, থিম ও মুড নির্ধারণ করত, যা সঙ্গীতের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তুলত। এই প্রক্রিয়ার অভাব আধুনিক স্ট্রিমিং সেবার সুবিধা সত্ত্বেও, শোনার অভিজ্ঞতায় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করে।
তরুণ প্রজন্মের নস্টালজিয়া নিয়ে লাকি মন্তব্য করেন, যে তারা এমন সময়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় যা তারা নিজে কখনো অনুভব করেনি। তিনি বলেন, এই আকর্ষণ কেবল স্মৃতির নয়, বরং পুরনো প্রযুক্তির গুণগত মানের স্বীকৃতি। ভিনটেজ গ্যাজেটের টেকসইতা, স্পর্শের আনন্দ ও সরলতা নতুন পণ্যগুলোর তুলনায় বেশি সন্তোষজনক বলে তারা মনে করে।
উভয় বক্তা একমত যে নস্টালজিয়া শুধুমাত্র আবেগীয় প্রবণতা নয়, বরং বাজারের বাস্তব প্রবণতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেট্রো গ্যাজেট, ভিনটেজ ডিজাইন এবং ক্লাসিক গেমের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়; উদাহরণস্বরূপ, সনি ও নিন্টেন্ডোর মতো বড় কোম্পানি পুরনো কনসোলের আধুনিক সংস্করণ প্রকাশ করেছে। এই প্রবণতা প্রযুক্তি শিল্পে নতুন পণ্য পরিকল্পনার জন্য প্রেরণা দিচ্ছে এবং ডিজাইন টিমগুলোকে পুরনো ফর্ম ফ্যাক্টর পুনর্বিবেচনা করতে উৎসাহিত করছে।
CES-এ অনুষ্ঠিত এই সেশনে উপস্থিত শিল্প নেতারা এবং মিডিয়া প্রতিনিধিরা নস্টালজিয়া-কে ভবিষ্যৎ পণ্যের ডিজাইন দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যে পুরনো নকশাকে আধুনিক হার্ডওয়্যারের সঙ্গে মিলিয়ে পণ্য তৈরি করছে; উদাহরণস্বরূপ, রেট্রো-স্টাইলের হেডফোন, কাঠের কেসযুক্ত স্মার্টফোন এবং ভিনটেজ টাচস্ক্রিন মনিটর বাজারে আসছে।
লাকি ও ওহানিয়ান উভয়ই উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি দ্রুত হলেও, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও নান্দনিক সন্তুষ্টি বজায় রাখতে পুরনো ডিজাইনের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভবিষ্যতে পণ্য ডিজাইনে রেট্রো উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান এবং শিল্পে ঐতিহ্যবাহী নকশার পুনর্নবীকরণকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই আলোচনার পর, অ্যান্ডুরিল এবং রেডিটের সংশ্লিষ্ট টিমগুলো নস্টালজিয়া-ভিত্তিক গবেষণা ও প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে না, তবে শিল্পে এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, নস্টালজিয়া-চালিত ডিজাইন পদ্ধতি ভবিষ্যতে পণ্যের আকার, উপাদান ও ব্যবহারিকতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষেপে, CES-এ লাকি ও ওহানিয়ান প্রযুক্তি নস্টালজিয়াকে শুধুমাত্র স্মরণীয় নয়, বরং ভবিষ্যতের পণ্য নকশার মূল দিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাদের বক্তব্য শিল্পের নকশা দিকের পুনর্বিবেচনা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার নতুন মানদণ্ড স্থাপনে সহায়ক হতে পারে।



