বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জে নিজের বাসভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ধর্মের ব্যবসা করে না এবং ইসলামে ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করা কোনো ন্যায়সঙ্গত পথ নয়।
টুকু বলেন, ইসলামিক ইতিহাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে পথ দেখিয়েছেন, সেটিই অনুসরণ করা উচিত এবং তাই বিএনপি তার নেতৃত্বে থাকা চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মদিনার সনদ অনুসারে দেশের পরিচালনা করবে। তিনি মওদুদিবাদ ও মদিনার ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরে, উভয়ের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।
এই মন্তব্যগুলো খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে করা হয়। টুকু জানান, ১১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বিসিক শিল্প পার্কে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে সব মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অনুষ্ঠানটি মৃতবেগমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং রাজনৈতিক সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলামসহ শহরের ২১৯টি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতি দলীয় সমন্বয় এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
টুকুর বক্তব্যের পেছনে বিএনপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে দলটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করে। তবে টুকু স্পষ্ট করে বলেন, দলটি ধর্মকে কোনো ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে না এবং ধর্মীয় নীতি অনুসারে দেশের শাসনকে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মদিনার সনদে বর্ণিত নীতি অনুসরণ করা মানে ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধকে রক্ষা করা এবং তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা।
টুকু উল্লেখিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একসঙ্গে আলোচনা করবে। এই আহ্বানটি বিএনপির ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রের সমর্থন বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা এবং দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতি, উভয়ই বিএনপির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিকের সমন্বয়কে প্রকাশ করে। টুকু এবং তার সহকর্মীরা ধর্মীয় নীতির ভিত্তিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছুকতা প্রকাশ করেছেন, যা দেশের ধর্ম-রাজনীতি সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
বিএনপির এই দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক পরিসরে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে স্পষ্ট যে, দলটি ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দেশের শাসনে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।



