বিশ্ব ব্যাংক আন্তর্জাতিক স্তরে অনলাইন ঋণ সম্পর্কিত প্রতারণা সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়ে বলেছে যে, কিছু অপরাধী সংস্থা তার নাম ও লোগো নকল করে ব্যক্তিগত ঋণের প্রলোভন সৃষ্টি করছে। এই সতর্কবার্তা ফেসবুকের সরকারি পেজে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে স্কিমের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠী বিশ্ব ব্যাংকের পরিচিতি ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঋণ অফার করে, যেখানে ভুয়া লোগো ও নামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস জয় করা হয়। এই ধরণের প্রতারণা মূলত ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক মিডিয়া পোস্ট এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য।
বিশ্ব ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা কোনো ব্যক্তিগত ঋণ সরাসরি প্রদান করে না। তার আর্থিক সহায়তা প্রধানত রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা বৃহৎ পরিসরের উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। তাই, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বিশ্ব ব্যাংকের নামে সরাসরি ঋণ প্রদান করে বলে দাবি করে, তা অবশ্যই ভুয়া।
সংস্থার মূল মিশন হল দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন। বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুহার কমাতে, শিক্ষা ও অবকাঠামো প্রকল্পে তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে দেশীয় উন্নয়নে সহায়তা করে। এসব কাজের জন্য বিশ্ব ব্যাংক আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ করে, যা সরকারী ও অ-সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।
অর্থায়নের প্রক্রিয়া সাধারণত বড় স্কেল প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত, যেমন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ এবং কৃষি উন্নয়ন। এই প্রকল্পগুলোতে অংশগ্রহণকারী সংস্থা গুলোকে বিশ্ব ব্যাংকের কঠোর মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, যাতে তহবিলের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়। ফলে, ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী কোনো সংস্থা সরাসরি বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল পায় না।
এই সতর্কবার্তা প্রথমবার নয়; গত বছরের মে মাসে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুরূপ সতর্কতা জানিয়ে ছিল। সেই সময়েও একই ধরনের ভুয়া স্কিমের ব্যাপারে জনগণকে সাবধান হতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। পুনরাবৃত্তি হওয়া এই সতর্কতা দেখায় যে, ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের অনলাইন ঋণ বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে ফিনটেক স্টার্টআপ এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। তবে, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অপর্যাপ্ততা এবং গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতায় ঘাটতি এই ক্ষেত্রকে অপরাধীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে, ভুয়া লোগো ও নাম ব্যবহার করে স্কিমের সংখ্যা বাড়ছে, যা আর্থিক ক্ষতি ও ঋণদাতার বিশ্বাস হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়।
গ্রাহকদের জন্য প্রধান পরামর্শ হল, কোনো অনলাইন ঋণ অফার গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বৈধতা যাচাই করা। বিশ্ব ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি নিশ্চিত করা যায় যে, কোনো ঋণ প্রকল্প বিশ্ব ব্যাংকের তহবিলের মাধ্যমে চলছে কিনা। এছাড়া, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং গ্রাহক সেবার স্বচ্ছতা পরীক্ষা করা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদে, অনলাইন আর্থিক সেবার নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং ভুয়া স্কিমের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে ভুয়া লোগো ব্যবহারকারী অপরাধী দ্রুত সনাক্ত ও শাস্তি পায়। একই সঙ্গে, আর্থিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে জনগণের ঝুঁকি সচেতনতা বাড়ানো উচিত। এভাবে, বিশ্ব ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য—দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই উন্নয়ন—সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।



