ডিটেকটিভ শাখা (ডিবি) জশোরে আলমগীর হোসেনের হত্যাকাণ্ডের প্রধান গুলিবিদকে গ্রেফতার করেছে। ৪০ বছর বয়সী ত্রিদিব চক্রবর্তী, যিনি মিশুক নামে পরিচিত, আলমগীর হোসেনের গুলি চালানোর অভিযোগে আটক হয়েছেন। ঘটনাটি জশোরের ওয়ার্ড নং‑৭-এ ঘটেছিল এবং গ্রেফতারটি গত রাতেই বেজপাড়া মন্দিরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সম্পন্ন হয়।
ত্রিদিব চক্রবর্তী জশোরের জেলায় দায়িত্ব পালনকারী এক প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং বিএনপি জশোর পৌরসভার ওয়ার্ড নং‑৭-ইউনিটের যৌথ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের গুলিবিদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তার অপরাধমূলক দায়িত্বের ভিত্তিতে ডিবি দল তাকে সন্ধ্যাবেলায় গৃহবন্দি করে আদালতে হাজির করে।
গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনকে আজ বিকালে জশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম রায়ের সামনে উপস্থিত করা হয়। আদালতে তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়, যেখানে তিনি আলমগীর হোসেনের হত্যায় নিজে সরাসরি জড়িত ছিলেন তা স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তি রেকর্ডের পরই আদালত তাকে জেলখানায় পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
ডিবি সাব‑ইনস্পেক্টর অ্যালোক কুমার দে (পিপিএম) জানান, প্রথমে অপরাধস্থল ও পার্শ্ববর্তী ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ত্রিদিবের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ণয় করা হয় এবং তা অনুসরণ করে গ্রেফতার সম্পন্ন হয়।
স্বীকারোক্তিতে ত্রিদিব আরও উল্লেখ করেন যে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পারাশ এবং তার সহযোগী সাগর। তিনি বলেন, পারাশ ও সাগরই গুলিবিদকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত দল পারাশ ও সাগরের ওপরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আলমগীর হোসেনের গুলি চালানো হয় ৩ জানুয়ারি রাতের দিকে, যখন সন্দেহভাজনরা একটিমোটরসাইকেল থেকে গুলি করে তার বাড়ির সামনে গুলি চালায়। গুলিবিদদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে গুলি চালানোর পদ্ধতি ও সময়ের ভিত্তিতে তদন্তের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে।
আলমগীর হোসেন, যিনি বিএনপি জশোর পৌরসভার ওয়ার্ড নং‑৭-ইউনিটের যৌথ সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্বে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন, গুলিবিদদের গুলি চালানোর ফলে প্রাণ হারান। তার মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে বিশাল শক সৃষ্টি করে।
হত্যার পরপরই ভুক্তভোগীর স্ত্রী শামিমা হোসেন একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পারাশ, সাগর এবং অন্যান্য অজানা সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে ডিবি দল দ্রুত গুলিবিদকে গ্রেফতার করার জন্য একটি বিশেষ অপারেশন চালু করে।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার পর ত্রিদিবকে জেলখানায় পাঠানোর রায় দেন। আদালত তার জেল শাস্তি নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করে।
কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং স্থানীয় নেতারা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে interim সরকারকে সমালোচনা করে থাকেন। তারা বলেন, interim সরকারকে অবৈধ অবস্থায় ফেলে রাখার ফলে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা বারবার ঘটছে। এই মন্তব্যগুলো সমাজের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বর্তমানে ত্রিদিব চক্রবর্তীর জেল শাস্তি কার্যকর হয়েছে এবং ডিবি দল পারাশ ও সাগরের ওপর অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার অগ্রগতি ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া আদালতের তদারকিতে চলমান রয়েছে।



