চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলা হাদি ফকিরহাট বাজারের উত্তরে, ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তেল সরবরাহের পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আফসার এক মাস আগে ওই পাইপলাইনের ওপর টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন এবং পরে তা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নাসির উদ্দিনের ছেলে আমিরুল ইসলামের কাছে ভাড়া দেন। ভাড়াটিয়া ঘর থেকে মাটিতে প্রায় দশ থেকে বারো ফুট গভীর পর্যন্ত খুঁড়ে পাইপলাইনের ফুটো করে তেল চুরির চেষ্টা শুরু করেন, তবে ফুটো থেকে তেল অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেরিয়ে আসা শুরু হলে তিনি তৎক্ষণাৎ সরে যান।
ফুটো থেকে বেরিয়ে আসা তেল সড়কে পড়ে যায় এবং আশেপাশের লোকজনের নজরে আসে। তেল ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বাসিন্দা বালতি, মগ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে তেল সংগ্রহ করতে শুরু করে। ঘটনাটি দ্রুতই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দৃষ্টিগোচরে আসে। তারা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তেল সরবরাহ বন্ধ করে এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিপিসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে, ছিদ্রযুক্ত পাইপলাইন বন্ধ করে তেল সরবরাহ পুনরায় চালু করার কাজ শুরু করেন। তেল চুরির প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত কয়েকটি ড্রাম, একটি ড্রিল মেশিন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তেল চুরির ফলে কত পরিমাণ তেল হারিয়েছে এবং পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলা উদ্দিন কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, হাদি ফকিরহাট এলাকায় মাটির প্রায় ১২ ফুট নিচে থাকা বিপিসি তেল সরবরাহের পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরির চেষ্টা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, চুরি করা তেল সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত ড্রাম ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিক মো. আফসারের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিপিসি পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং চুরি করা তেলের পরিমাণ ও পাইপলাইনের ক্ষতি নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে তৎক্ষণাৎ তেল সরবরাহ বন্ধ করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তেল চুরির ফলে পরিবেশগত ক্ষতি ও জনসাধারণের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিপিসি ও স্থানীয় প্রশাসন তেল চুরির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেল চুরির পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে চুরি করা তেলের পরিমাণ ও ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া যায় এবং দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনা তেল পাইপলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অবৈধ তেল চুরির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিপিসি এখন থেকে পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে, অননুমোদিত গঠন ও গৃহস্থালি কাজের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



