27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণভোটের মাধ্যমে সরকারী ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বন্ধের আহ্বান

গণভোটের মাধ্যমে সরকারী ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বন্ধের আহ্বান

ঢাকার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভবিষ্যৎ শাসকগণকে ফ্যাসিবাদী রূপে পরিণত হওয়া রোধে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ত্রুটিগুলোই শাসকদেরকে অন্ধকার পথে ধাবিত করে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।

কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’, যেখানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার পরিচালনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে চারশটি এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান আলোচক হিসেবে রীয়াজের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

রীয়াজের বক্তব্যে তিনি জোর দেন, গণভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার কাঠামোই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা উসকে দেয় এবং এই কাঠামোকে পরিবর্তন না করা পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট রূপে রূপান্তর অস্বীকার করা যাবে না।

মনির হায়দার কর্মশালায় পাকিস্তানি শাসনামলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী কীভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করেছিল, তা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ সময়ের অভিজ্ঞতা আজকের গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্যকে আরও স্পষ্ট করে।

সুজনের পক্ষ থেকে বদিউল আলম মজুমদার ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন, যেখানে তিনি জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত সংস্কার ও গণভোটের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। মজুমদার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি অর্জন করা হলে সরকারী নীতি ও কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সহজ হবে।

কর্মশালার অংশগ্রহণকারীরা রীয়াজের প্রস্তাবিত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফল যদি ইতিবাচক হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে। তারা আরও জোর দেন, এনজিওগুলো গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়ার মন্তব্যে তিনি বলেন, এনজিওগুলো দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় অংশীদার এবং গণভোটের সফলতা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি কর্মশালার লক্ষ্যকে ‘গণভোটের সঠিক ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিরা একমত হন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা সম্ভব। তারা দাবি করেন, সরকারী নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়াতে গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অধিকন্তু, কর্মশালায় আলোচনা হয় কীভাবে গণভোটের ফলাফলকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাব দেন, গণভোটের পর সরকারী সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রীয়াজের মতে, গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের সংবিধানিক ত্রুটি দূর করা এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ না নিলে শাসকগোষ্ঠী স্বৈরাচারী রূপে পরিণত হতে পারে।

কর্মশালার সমাপনী সেশনে রীয়াজ পুনরায় জোর দেন, গণভোটের ফলাফল যদি ইতিবাচক হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে মুক্তি দেবে। তিনি সকল এনজিওকে গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানান।

এই কর্মশালার মাধ্যমে সরকার, এনজিও এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে গণভোটের মাধ্যমে দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়। ভবিষ্যতে গণভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে সকল দিক থেকে নজর রাখা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments