মস্কো বৃহস্পতিবার একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য মোতায়েনের পরিকল্পনা ইউক্রেনের ভূখণ্ডে নতুন হুমকি তৈরি করবে।
ব্রিটেন এবং ফ্রান্স প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত বৈঠকে ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনী গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। উভয় দেশই একটি অভিপ্রায়পত্রে স্বাক্ষর করে, যেখানে ভবিষ্যতে কয়েক হাজার সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, প্রয়োজনে ফরাসি সেনাবাহিনী ইউক্রেনে পাঠানো হতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যার অধীনে ব্রিটিশ, ফরাসি ও মিত্র বাহিনী ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
রাশিয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, ইউক্রেনে কোনো পশ্চিমা সামরিক ইউনিট, ঘাঁটি, গুদাম বা সমজাতীয় অবকাঠামো স্থাপনকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হবে। মস্কো যুক্তি দেয় যে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র রাশিয়ার নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করবে।
রাশিয়া এই ইউনিটগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে। মস্কো আরও উল্লেখ করে, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এবং কিয়েভ সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো ইউরোপের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের জন্য বিপর্যয়কর যুদ্ধের অক্ষ গঠন করছে।
রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েনকে অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার সময়, মস্কো দাবি করেছিল যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা রোধ করা এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি থেকে রক্ষা পাওয়া তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ইউক্রেন ও তার মিত্র দেশগুলো রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার কোনো আক্রমণ রোধে শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন, যা কোনো শান্তি চুক্তির মূল শর্ত হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা ইউক্রেনে নিজস্ব সৈন্য পাঠাবে না, তবে সামরিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখবে। প্যারিসের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সীমিত ছিল, তবে তার নীতি ইউক্রেনে সরাসরি সৈন্য মোতায়েন না করা।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সতর্কতা ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন জটিলতা যোগ করেছে। তারা বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি রাশিয়ার কৌশলগত গণনা পরিবর্তন করতে পারে এবং সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা নীতি বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার মন্তব্যকে একটি কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যা ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনীর গঠনকে বাধা দিতে চায়। তারা যুক্তি দেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা পরীক্ষা করে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
অবিলম্বে পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এর সদস্য দেশগুলোকে তাদের অভিপ্রায়পত্রের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই পরিস্থিতি ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।



