ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মহিলা দল ২৮ বছর বয়সী জার্মান ফরোয়ার্ড লো শুলারকে স্বাক্ষর করেছে এবং তাকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত চুক্তি প্রদান করেছে। শুলার বর্তমানে জার্মানির জাতীয় দলে ৮২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৪ গোল করেছেন, যা তাকে দেশের অন্যতম ফলপ্রসূ আক্রমণকারী করে তুলেছে।
ইউনাইটেডের উইমেনস সুপার লিগে ২০১৯ সালে প্রবেশের পর থেকে কোনো খেলোয়াড় এক সিজনে দশের বেশি গোল করতে পারেনি। শুলার জার্মানির ফ্রাউয়েন বুন্দেসলিগায় সাত বছর ধারাবাহিকভাবে দশের বেশি গোলের রেকর্ড বজায় রেখেছেন, ফলে তার রেকর্ড ইউনাইটেডের আক্রমণগত ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
শুলারের গতি, দু’পা দিয়ে শুটিং করার ক্ষমতা, হেডার দক্ষতা এবং শারীরিক শক্তি তাকে আধুনিক স্ট্রাইকারের আদর্শ গুণাবলি প্রদান করে। তার এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ইউনাইটেডের কোচিং স্টাফকে আকৃষ্ট করেছে, যারা তাকে দলের মূল আক্রমণীয় হুমকি হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন।
শুলারকে প্রশিক্ষণ দিতেন ড্যানিয়েল ক্রাউস, যিনি ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত শুলারকে এসজি এসসেনের কোচিং দায়িত্বে ছিলেন। ক্রাউসের মতে, শুলারের গতি, দু’পা দিয়ে শুটিং, হেডার এবং শারীরিক শক্তি তাকে বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের পথে নিয়ে যাবে। তিনি শুলারের ইংলিশ ফুটবলের শৈলী ও শারীরিক দিকের সাথে মানিয়ে নিলে আরও উন্নতি হবে বলে আশাবাদী।
ক্রাউস শুলারের সম্ভাব্য পার্টনারদের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, যদি ফ্রিডোলিনা রোলফো তার পাশে ক্রস দেন এবং এলা টুনে পেছন থেকে পাস সরবরাহ করেন, তবে শুলার বক্সে প্রবেশ করে হেডার ও পায়ের শুট দিয়ে সহজে গোল করতে পারবে। এই সমন্বয় শুলারের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সম্ভবত জাতীয় দলে তার ভূমিকা পরিবর্তনেও সহায়তা করবে।
বর্তমানে ক্রাউস ওয়োলফসবার্গের উন-২০ দল (ওয়োলফসবার্গ II) কোচিং করছেন, যা জার্মানির দ্বিতীয় স্তরের সেমি-প্রফেশনাল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তিনি শুলারের সঙ্গে প্রথম কাজ শুরু করেন যখন শুলার ১৯ বছর বয়সী ছিলেন, তখন দলের মধ্যে লিন্ডা ডালম্যানও ছিলেন। দুজনই একসাথে আক্রমণাত্মক শক্তি প্রদর্শন করে দলকে সফল করে তুলেছিলেন।
শুলার পরবর্তীতে বায়ার্ন মিউনিখে স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকা পালন করেন এবং প্রায় সব সময় মাঠের মাঝখানে অবস্থান করে গোলের সুযোগ তৈরি করতেন। তার এই অভিজ্ঞতা ইউনাইটেডের আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে পারে।
ইউনাইটেডের মহিলা দল এখন শুলারের আগমনের মাধ্যমে আক্রমণগত বিকল্প বাড়াতে চায়, বিশেষ করে গেমের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা। শুলারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক গোলের রেকর্ড দলকে বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে।
ক্লাবের অফিসিয়াল ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুলার ক্যারিংটনে তার প্রথম মৌসুমে দলকে লিগের শীর্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তার চুক্তি ২০২৯ পর্যন্ত চলবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দলকে স্থিতিশীলতা দেবে।
শুলার নিজে এই চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ক্লাবের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তিনি ইংলিশ ফুটবলের শৈলী শিখতে ও তার শারীরিক গুণাবলি বাড়াতে উন্মুক্ত। এই মানসিকতা তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে।
ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচটি শুলারের প্রথম উপস্থিতি পরীক্ষা করার সুযোগ হবে, যেখানে তিনি দলের আক্রমণগত পরিকল্পনায় কীভাবে সংযুক্ত হবেন তা দেখা যাবে। দলটি শুলারের সঙ্গে নতুন কৌশল প্রয়োগ করে শীঘ্রই ফলাফল প্রকাশের আশা করছে।
শুলারের এই স্বাক্ষর ইউনাইটেডের মহিলা ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং জার্মানির শীর্ষ স্ট্রাইকারকে ইংল্যান্ডের মাটিতে দেখতে সুযোগ দেবে।



