শরীয়তপুরের জাজিরা থানা অধীনে অবস্থিত চেরাগআলী বেপারীকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় দুই যুবক আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২২ বছর বয়সী নবী হোসেন এবং ২৫ বছর বয়সী নয়ন হোসেন অন্তর্ভুক্ত। বিস্ফোরণের ফলে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের তৎক্ষণাৎ নবী হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং বিকেল সাড়ে চারটায় তিনি প্রাণ হারান। তার দেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে রাখা হয়েছে।
নয়ন হোসেনকে একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থা এখনও গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্ত সঞ্চালন পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি শল্যচিকিৎসার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তার অবস্থার আপডেট হাসপাতাল থেকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।
পুলিশের মতে, বিস্ফোরণের ফলে নবীর মুখ ও দুটো হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আহতদের শারীরিক ক্ষতি সম্পর্কে ফরেনসিক দলও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয় জানার জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনাটির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমিক রেকর্ডিং, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছে।
নবীর পরিবার জানায়, তার পিতার নাম রহিম সরদার, যিনি গৃহস্থালী ওয়েল্ডিং কাজ করেন। পরিবারটি গ্রামেই বসবাস করে এবং নবীর মৃত্যুর শোক প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে নয়নের পিতার নাম জয়নাল, যাঁর পরিবারও একই গ্রামে বসবাস করে। দুই পরিবারের মধ্যে এই দুঃখজনক ঘটনার ফলে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের মতে, বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধী চিহ্নিত করা হলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে। বর্তমানে গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের শর্তে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগে প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের ধরণ নির্ধারণের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় আদালতে মামলার শুনানি নির্ধারিত হবে। আদালতকে মামলার প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সাক্ষ্যপত্রের ভিত্তিতে যথাযথ রায় দিতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে যে, ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে।
বিস্ফোরণের পর গ্রামবাসীরা শোকাহত হলেও, তারা একে অপরের পাশে থেকে পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ধর্মীয় গোষ্ঠী শোকসন্তাপের সময় পরিবারকে সহায়তা প্রদান করছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে গ্রামটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।



