মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজধানীর দু’টি স্থানে একসঙ্গে অভিযান চালায়। প্রথমে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভেজাল মদ তৈরির কারখানা ধ্বংস করে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়; আর পরের দিন ওয়ারির এক বাসায় ‘কুশ’ নামের মাদক উৎপাদনের ল্যাব ধরা পড়ে।
বসুন্ধরা ফ্ল্যাটে গৃহপরিদর্শনের সময় সম্পূর্ণ ভেজাল মদ উৎপাদনের অবকাঠামো, মেশিনারি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ পাওয়া যায়। তদুপরি, ভেজাল মদ তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থও উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদি হাসান ও সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ নেতৃত্ব দেন।
ফ্ল্যাটে ৭৯টি মদ বোতল, ১৬৬টি ক্যান বিয়ার এবং ১৩২ লিটার ভেজাল মদ তৈরির রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। তদুপরি, রিপন হিউবার্ট গোমেজ (৪৮) ও আবদুর রাজ্জাক (৪০) নামের দুইজনকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তথ্য অনুসারে জোয়ার সাহারার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়, যেখানে মদ ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ডমিনিক পিরিচ (৩৭) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মেহেদি হাসান জানান, চক্রটি ভারত থেকে অবৈধ পথে সংগ্রহ করা বিভিন্ন বিদেশি মদ ব্যবহার করে সেগুলোর সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে (টিউনিং) ভেজাল মদ তৈরি করত। এরপর দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভরে সিল ও স্টিকার লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করত।
ওয়ারির বাসায় ‘কুশ’ মাদক উৎপাদনের ল্যাব ধরা পড়ে। ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদেশি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতো, যা নির্দেশ করে যে মাদক উৎপাদনটি উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো হচ্ছিল। এই ল্যাবের সন্ধান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকের (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ প্রেস কনফারেন্সে জানালেন।
অধিদপ্তর জানায়, ‘কুশ’ ল্যাবের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৌসিফ হাসান (২২) নামের এক ব্যক্তি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন, তার বাসা ওয়ারিতে চিহ্নিত করা হয়। তৌসিফের বাসা থেকে মাদক চাষের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তদন্ত চালু রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তর একই সময়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ৩ জানুয়ারি অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহজনক পার্সেল জব্দ করে বেশ কিছু ইয়াবা পাওয়া যায়। এই সূত্রে একটি নারী শনাক্ত করা হয়, যাকে পরে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়।
খিলগাঁওতে গ্রেপ্তার করা নারী সুমেহরা তাসনিয়া, যাকে তাসনিয়া হাসান নামেও চেনা যায়, ২০ বছর বয়সী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তৌসিফ হাসানের জন্য তিনি ইয়াবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাচ্ছিলেন। তৌসিফের বাসা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারিতে মাদক চাষের ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়।
অধিদপ্তরের পরিচালনা ও অপারেশনসের প্রধান বশির আহমেদ উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন সন্দেহভাজন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
এই দুইটি অভিযানের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশের মদ ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অবৈধ কার্যক্রম দমন করতে আরও সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।



