ঢাকায় বসে গার্মেন্ট শিল্পের প্রধান সংস্থা BGMEA এবং উরুগুয়ের দূত আলবার্তো গুয়ানি আজকের বৈঠকে মার্কোসুরের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মার্কোসুর হল পাঁচটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশের একটি বাণিজ্য গোষ্ঠী—ব্রাজিল, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও পারাগুয়ে—যার সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার।
বর্তমানে বাংলাদেশি গার্মেন্ট রপ্তানিকারকরা এই দেশগুলোতে পণ্য পাঠাতে উচ্চ শুল্কের সম্মুখীন হন, যা রপ্তানি খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
BGMEA-এর নেতারা উল্লেখ করেছেন, উরুগুয়ের আধুনিক বন্দর ও উন্নত পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গার্মেন্ট পণ্যকে পুরো মার্কোসুর অঞ্চলে সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই একমত হয়েছেন যে, বাংলাদেশকে লিডি (LDC) শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এফটিএ চুক্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন, যাতে রপ্তানি বাধা কমে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ে।
প্রস্তাবিত চুক্তির অধীনে, যদি বাংলাদেশ উরুগুয়ে থেকে উল আমদানি করে, তবে উরুগুয়ের গার্মেন্ট রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উরুগুয়ের মেরিনো উল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেসেবিলিটি সার্টিফিকেশন ধারণ করে, যা বাংলাদেশি পোশাক নির্মাতাদের গুণগত মান উন্নত করে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
BGMEA-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান গার্মেন্ট শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে, সরকারী স্তরে সমন্বয় ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ যদিও গ্লোবাল গার্মেন্ট রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, তবু ল্যাটিন আমেরিকান বাজারে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রবেশাধিকার অর্জন করেনি।
এফটিএ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উরুগুয়ের বন্দর থেকে রপ্তানি করা পণ্যগুলো দ্রুত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পারাগুয়ের মতো বড় বাজারে পৌঁছাতে পারবে, যা রপ্তানি পরিমাণ ও আয় বৃদ্ধি করবে।
অধিকন্তু, উল আমদানি করে উরুগুয়ের সাথে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় বাড়লে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত হবে এবং গার্মেন্ট শিল্পে নতুন সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এফটিএ চুক্তি সফল করতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা, মানদণ্ডের সামঞ্জস্য এবং লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন, যা সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা দাবি করে।
সারসংক্ষেপে, মার্কোসুরের সঙ্গে এফটিএ চুক্তি গার্মেন্ট রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য নীতি নির্ধারণ, বাণিজ্যিক শর্তাবলী এবং লজিস্টিকসের সমন্বয় জরুরি।



