ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম প্রিমাইসের পার্টনার ভ্যানেসা লারকো ২০২৬কে ভোক্তা‑কেন্দ্রিক প্রযুক্তির উত্থানের বছর বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সাল থেকে ভোক্তা প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগের প্রবণতা মন্দার দিকে ঝুঁকেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির ফলে ভোক্তাদের ব্যয়ক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়িয়েছে।
এই সময়কালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষেত্রে মূলধন মূলত এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। বড় বাজেট, বহু বছরের চুক্তি এবং দ্রুত স্কেলিংয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগকারীরা প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফলে ভোক্তা সেক্টরের জন্য উপলব্ধ তহবিল তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
লারকো বলেন, যদিও এন্টারপ্রাইজের আর্থিক সক্ষমতা বেশি, তবে AI সমাধান গ্রহণে প্রায়শই বাধা দেখা দেয় কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই জানে না কোথা থেকে শুরু করা উচিত। অন্যদিকে ভোক্তা ও প্রো‑সামার (প্রোফেশনাল ব্যবহারকারী) বাজারে ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে কী চান তা স্পষ্টভাবে জানে, ফলে পণ্য গ্রহণের গতি দ্রুত হয়।
ভোক্তা বাজারে পণ্য গ্রহণের দ্রুততা স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসে। এন্টারপ্রাইজের চুক্তি জিতলে পণ্য‑বাজার ফিট নিশ্চিত হয় না, তবে ভোক্তা পণ্য হলে ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া তৎক্ষণাৎ দেখা যায়। যদি পণ্যটি চাহিদা পূরণ না করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ বা সম্পূর্ণ নতুন দিকনির্দেশে সরে যাওয়া সম্ভব হয়।
বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে, স্কেলযোগ্য ভোক্তা প্রযুক্তি পণ্যগুলোকে শক্তিশালী পণ্য‑বাজার ফিটের সূচক হিসেবে দেখা হয়। দ্রুত ব্যবহারকারী গ্রহণ এবং ধারাবাহিক ব্যবহার পণ্যের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
ভোক্তা প্রযুক্তি পুনরুজ্জীবনের প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। গত বছর শেষের দিকে, ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করেছে। এই সংযোজনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাটবটের মধ্যে শপিং, রিয়েল এস্টেট অনুসন্ধান, ভ্রমণ বুকিং এবং সঙ্গীত প্লেলিস্ট তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে টার্গেট, জিলো, এক্সপিডিয়া এবং স্পটিফাইয়ের অ্যাপগুলো চ্যাটজিপিটি ইন্টারফেসে সংযুক্ত হয়েছে। ব্যবহারকারী এখন চ্যাটের মাধ্যমে টার্গেটের পণ্য নির্বাচন, জিলোর মাধ্যমে বাড়ি খোঁজা, এক্সপিডিয়ার মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং স্পটিফাইতে সঙ্গীত তালিকা তৈরি করতে পারে, যা পূর্বে আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করে করা হত।
এই ধরণের একীভূত সেবা AI-কে ব্যক্তিগত সহকারী, অর্থাৎ কনসিয়ার্জের মতো ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করে। ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেবা প্রদান করা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। লারকো উল্লেখ করেন, AI-ভিত্তিক কনসিয়ার্জ সেবা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজকে সহজতর করবে এবং ভোক্তা প্রযুক্তির চাহিদা বাড়াবে।
ভোক্তা সেক্টরে AI পণ্যের দ্রুত গ্রহণের ফলে স্টার্টআপগুলোকে বাজারে দ্রুত অবস্থান নির্ধারণের সুযোগ মিলবে। পণ্য‑বাজার ফিটের স্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি কমিয়ে দেবে এবং তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
অর্থনৈতিক উদ্বেগের মাঝেও, ভোক্তা প্রযুক্তি যদি স্কেল অর্জন করতে পারে, তবে তা শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। লারকো বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালে ভোক্তা‑কেন্দ্রিক AI পণ্যগুলো বাজারে প্রধান ভূমিকা পালন করবে এবং এন্টারপ্রাইজের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
সারসংক্ষেপে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৬কে ভোক্তা প্রযুক্তির উত্থানের বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এন্টারপ্রাইজের তুলনায় ভোক্তা বাজারে পণ্য গ্রহণের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা স্টার্টআপের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হবে। ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক কনসিয়ার্জ সেবা দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে, যা ভোক্তা প্রযুক্তির পুনরুত্থানকে ত্বরান্বিত করবে।



