চট্টগ্রাম বিভাগের কর্ণফুলী অঞ্চলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বুধবার একটি তদবিরে ভারতীয় নাগরিক এবং ছয়জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করেছে। তারা জাহাজে নিষিদ্ধ ট্রলিং যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং অবৈধ ট্রল নেট তৈরি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়।
তদবিরের সময় কোস্ট গার্ড ১২টি অবৈধ ট্রল নেট, দড়ি, জাল এবং অন্যান্য ট্রলিং সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার সমান। এই সরঞ্জামগুলো মূলত কিশোর মাছ ধরতে এবং প্রাকৃতিক মাছের বাসস্থান ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকের নাম পাণ্ডিত বিস্বাস, বয়স ৩৯ বছর, এবং তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাউথ ২৪ পারগনা জেলার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিস্বাস আগের বছর আগস্টে একই অপরাধে গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
বিস্বাস নভেম্বর মাসে পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশে ফিরে এসে আবার একই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চালু করেন। তার কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত, যেখানে বাগুড়া জেলার পাথারঘাটা এবং চট্টগ্রামের বাশখালি সহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ট্রল নেট ব্যবহার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার লে. কমান্ডার সিয়াম-উল-হাক জানান, বিস্বাস ট্রলিং যন্ত্রপাতির একজন দক্ষ মেকানিক এবং স্থানীয় জাহাজের মালিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি শেষ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিয়াম-উল-হাকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে। তিনি এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, পরিবেশগত ক্ষতি রোধে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
গ্রেফতারকৃত সাতজন সন্দেহভাজনকে স্থানীয় পুলিশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা মাছ ধরা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবৈধ ট্রল নেটের ব্যবহার তরুণ মাছের সংখ্যা হ্রাস এবং সামুদ্রিক বাসস্থানের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, যা দেশের মাছের উৎপাদন ও মৎস্যজীবীদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের কার্যক্রমকে রোধ করা মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে একই রকম অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তীব্র নজরদারি বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তদবির চালিয়ে যাবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট।



