27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশের তিনটি মিশনের ভিসা বিভাগ নিরাপত্তা কারণে বন্ধ

বাংলাদেশের তিনটি মিশনের ভিসা বিভাগ নিরাপত্তা কারণে বন্ধ

দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলা অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনের ভিসা বিভাগগুলোকে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত আজ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা তৌহিদ হোসেনের ঘোষণায় জানানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য এবং ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।

দিল্লি হাইকমিশনের ভিসা বিভাগ, কলকাতা ডেপুটি হাইকমিশনের এবং আগরতলা সহকারী হাইকমিশনের ভিসা সেবা বন্ধের তথ্য সরকারী সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, চেন্নাই ও মুম্বাইতে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনের ভিসা বিভাগগুলো এখনও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

তৌহিদ হোসেনের মতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই তিনটি মিশনের ভিসা সেবা বন্ধ করা হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন যে, ভিসা সেবা পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, এই ধরনের নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশি মিশনের আশেপাশে প্রতিবাদী আন্দোলন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রতিবাদগুলো মূলত রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত, যা মিশনের কর্মী ও ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগ শাসন থেকে সরে যাওয়ার পর, ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা সীমিত করে দেয়, নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। এই পদক্ষেপের ফলে দু’দেশের মধ্যে ভিসা নীতি নিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশি স্পিনার মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়, যা ভারতের মধ্যে বাংলাদেশি বিরোধী প্রতিবাদে প্রভাব ফেলেছে। এই ঘটনার পর, বাংলাদেশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা আসিফ নাজরুলের সঙ্গে তৌহিদ হোসেনের মতামত মিলিয়ে দলকে ভারত পাঠানো থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তৌহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে বলছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে বাংলাদেশি ক্রিকেট দলকে ভারতীয় মাটিতে না পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তর করার দাবি করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, দলটি অবশ্যই ভারতের বাইরে খেলবে এবং শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক দেশকে ম্যাচের আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হবে।

খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন। উভয় পক্ষের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, এমন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সময়ে সময়ে উদ্ভব হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে কিছু না কিছু প্রভাব পড়ে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, তা খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা হোক বা বাণিজ্যিক স্বার্থ।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি দেশের স্বার্থে ভারত থেকে চাল কেনা প্রয়োজন হয়, তবে বাংলাদেশ তা করবে। একইভাবে, খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে দলকে ভারত না পাঠিয়ে অন্য দেশেই খেলতে হবে। এই নীতি দেশের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় গৃহীত।

সারসংক্ষেপে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি মিশনের তিনটি ভিসা বিভাগ বন্ধ, অন্য দুইটি মিশনের সেবা চালু, এবং ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments