ময়মনসিংহ-১০ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকে নিয়ে সম্পদ জব্দের মামলা চলমান। বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ গুলশান ও ধানমন্ডির দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁও এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১৬ একর জমা জব্দের আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতে দুদক (দুর্নীতি বিরোধী দপ্তর) সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের আবেদন বিবেচনা করা হয়। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাহমী গোলন্দাজ গোপনে তার সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা বিচার চলাকালে সম্পদ হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে, সংশ্লিষ্ট সম্পদের দালিলিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ফাহমীর বিরুদ্ধে জানুয়ারি ২০২২-এ জ্ঞাত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগে ২০ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ৫৭৩ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের তদন্তে প্রকাশ পায়, তিনি ১৬টি ব্যাংকে মোট প্রায় ৬০ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এছাড়া, ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৬ মার্কিন ডলার সমমানের লেনদেনের রেকর্ডও পাওয়া যায়, যা সন্দেহভাজনের আর্থিক কার্যক্রমের অস্বচ্ছতা নির্দেশ করে।
অভিযুক্তের সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া আদালতের আদেশের পরপরই শুরু হয়েছে। গুলশান ও ধানমন্ডির ফ্ল্যাটগুলোকে ক্রোকের আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং ময়মনসিংহের জমি থেকে কোনো পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণে রাখা হবে। দুদক আইনগতভাবে সম্পদের হস্তান্তর রোধের জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
এই মামলায় ফাহমীর বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদ লুকিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। আদালত এখন পর্যন্ত সম্পদের জব্দের আদেশ প্রদান করেছে, তবে সম্পদের প্রকৃত উৎস ও লেনদেনের বিশদ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত শুনানি নির্ধারিত হতে পারে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট আইনগত সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে সম্পদের অবৈধ উৎস উন্মোচন ও পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ফাহমী গোলন্দাজের সম্পদ জব্দের আদেশের পরবর্তী ধাপগুলোতে সম্পদের মালিকানা যাচাই, লেনদেনের বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আদালত যদি প্রমাণ পায় যে সম্পদ গোপনে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই মামলায় জড়িত সকল পক্ষের জন্য আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে, যাতে সম্পদের জব্দ ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়। ভবিষ্যতে আদালত যদি আরও সম্পদ জব্দের আদেশ দেন, তবে তা সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে কার্যকর হবে।
ফাহমী গোলন্দাজের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও আদালতের আদেশের প্রভাব দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। তবে, এই পর্যায়ে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য বা অনুমান করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে, কারণ মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও রইল না।



