আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কার বেলা‑১, যা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, মার্কিন নৌবাহিনীর দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। জব্দের সময় ট্যাঙ্কারটি আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী জলে ছিল এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সমর্থন পেয়েছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই অভিযানের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। স্টার্মার উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সহায়তা জাহাজ “RFA Tidesforce” পাঠিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর অনুরোধে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করেছে।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের মতে, বেলা‑১ ট্যাঙ্কারটি আইসল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল যখন মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার তার পিছু নিয়েছিল। একই সময়ে, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ট্যাঙ্কারটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য সরবরাহে অংশগ্রহণ করেছিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নৌবহরের পাহারা সত্ত্বেও, মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারটি আটক করতে সক্ষম হয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েমও ট্যাঙ্কার জব্দের বিষয়ে মন্তব্য করে, এই ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে এই ঘটনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে ট্যাঙ্কারটির ওপর সরাসরি হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনজন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কো এই অনুরোধটি পুনরায় জোর দিয়েছে, যদিও ট্যাঙ্কারটি ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে।
বেলা‑১ ট্যাঙ্কারটি পূর্বে ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো, যা রাশিয়ার তেল রপ্তানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। ট্যাঙ্কারটির মালিকানা ও পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য এখনও স্পষ্ট না হলেও, আন্তর্জাতিক তেল বাজারে রাশিয়ার শেয়ার হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
এই জব্দের পটভূমিতে ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাশিয়ার তেল রপ্তানি নীতি একসাথে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং আটলান্টিক জলে রাশিয়ার নৌবহরের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের সংকেত দিয়েছে। একই সঙ্গে, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে, এই ধরনের সমন্বিত অপারেশন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারটি নিরাপদ বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জ্বালানি মালিকানা ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করা হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সংলাপের জটিল আন্তঃসম্পর্ককে উন্মোচিত করেছে। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের নিয়মাবলী ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



