মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজন সন্দেহভাজকের মধ্যে দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুই সন্দেহভাজক হলেন মো. সিজান মাহমুদ, ২০ বছর বয়সী এবং নাফিজ আহমেদ, ২২ বছর বয়সী; উভয়ই মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই সন্দেহভাজক রুবেল শেখ, ২৪ এবং মো. সুমন শেখ, ২৫, একই ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
সিজান মাহমুদ ও নাফিজ আহমেদ গত বছর ২০ এপ্রিল ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মহম্মদপুর উপজেলা কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র ছিলেন। এই কমিটি দু’দিনের মধ্যে বাতিল ঘোষণার ফলে তার কোনো বৈধতা অবশিষ্ট নেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলার আহ্বায়ক সেলিম জানান, কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দুই দিনের পরই তা বাতিল করা হয় এবং এখন আর কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু নেই।
অবশিষ্ট দুই সন্দেহভাজক রুবেল শেখ ও সুমন শেখের whereabouts অজানা; তারা পলাতক হওয়ায় তাদের কাছ থেকে কোনো বিবৃতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাক ও অন্যান্য প্রমাণাদি অপরাধস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে; এসব বস্তু এখন ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী ও গ্রেপ্তারকৃত দুই সন্দেহভাজকের ডিএনএ নমুনা তুলনা করা হবে; ফলাফল অনুযায়ী মামলার আইনি দিক নির্ধারিত হবে।
অবশিষ্ট দুই সন্দেহভাজকের গ্রেপ্তারী প্রচেষ্টা চলমান; পুলিশ তাদের সন্ধানে অতিরিক্ত দল গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রেপ্তারকৃত দুই সন্দেহভাজকের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনের ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।
মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের ডিএনএ ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে, যা বিচার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যৌন অপরাধের শিকারদের সুরক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



