পে কমিশন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের পূর্ণ সভায় নবম জাতীয় পে স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের জন্য তিনটি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাবগুলোতে কোনোটি চূড়ান্ত করা হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, ফলে সরকারী কর্মীদের বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় পে স্কেল সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে পূর্ণ কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। সভায় প্রেজেন্টেশন দেওয়া হলেও, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন স্কেল নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান সভার নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি, ফজলুল করিম, মোসলেম উদ্দীন, সদস্য সচিব ফরহাদ সিদ্দিক এবং কয়েকজন খণ্ডকালীন সদস্য ছিলেন। সকল সদস্যই প্রস্তাবিত বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
সর্বোচ্চ বেতন স্কেল সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে জাকির আহমেদ খান জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাবনা বের করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য ভাতার বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যা এখনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বেতন স্কেলের এই পুনর্বিবেচনা দেশের সরকারি কর্মীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন বেতনের তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করা হবে তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফলের ওপর, যা সরাসরি কর্মীদের জীবনের মানকে প্রভাবিত করবে।
নবম পে স্কেল প্রথমে ২০২২ সালে প্রয়োগ করা হয়, তবে সময়ের সাথে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে কমিশন নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে সরকারি কর্মীদের বেতন বাস্তবিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
কমিশনের সদস্যরা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোতে বেস বেতনের পাশাপাশি ভাতা, বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই সব উপাদান একসাথে কীভাবে গঠন করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করা বাকি।
পরবর্তী ধাপে কমিশন চূড়ান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করে সরকারকে উপস্থাপন করবে। সরকারী অনুমোদনের পর নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হবে, যা আগামী আর্থিক বছরের বাজেটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, কারণ বেতন সংশোধন সরকারী কর্মীদের মনোবল এবং জনসাধারণের নীতি-নির্ধারণে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। তাই পে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা এখনই সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



