বিশ্বব্যাংক (World Bank) আজ বাংলাদেশে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক জরুরি সতর্কতা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে নকল ঋণ স্ক্যাম চালিয়ে যাওয়া অপরাধী গোষ্ঠীর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এই সতর্কতা প্রকাশের পটভূমি হল সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে বহু মানুষকে প্রতারণা করে আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। স্ক্যামকারীরা ভুয়া ফেসবুক পেজ ও পরিচয় তৈরি করে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিত্বের দাবি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ফি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে।
বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরাসরি ঋণ প্রদান করে না এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না। এই স্পষ্টীকরণটি পূর্বে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে, তাদের কোনো শাখা বা অফিসে ব্যক্তিগত ঋণ আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া নেই এবং কোনো ফি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নেই।
প্রতারণাকারীরা মূলত ফেসবুকের নকল পেজ তৈরি করে বিশ্বব্যাংকের লোগো ও স্লোগান ব্যবহার করে নিজেদেরকে বৈধ সংস্থা হিসেবে উপস্থাপন করে। এই নকল পেজগুলোতে প্রায়শই ভুক্তভোগীদেরকে দ্রুত ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আকৃষ্ট করা হয় এবং অতিরিক্ত ফি বা সিকিউরিটি ফি হিসেবে টাকা চাওয়া হয়। স্ক্যামকারীরা প্রায়শই ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি চ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে, যেখানে তারা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বিক্রেতা ও ভুক্তভোগীরা সাধারণত এই ধরনের প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হন, কারণ ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ বলে দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে, অর্থ পাঠানোর পর কোনো ঋণ প্রদান হয় না এবং ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। স্ক্যামকারীরা প্রায়শই ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফোন নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ চায়, যা পরে আরও জটিল প্রতারণার জন্য ব্যবহার করা হয়।
বিশ্বব্যাংক এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা কোনোভাবে এই অপরাধে জড়িত নয় এবং এমন কোনো কার্যক্রমে তাদের অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটি সকল নাগরিককে সতর্ক করে বলেছে, যদি কেউ এমন কোনো প্রস্তাব পায় যা বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে, তবে তা অবিলম্বে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে রিপোর্ট করা উচিত।
সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি, বিশ্বব্যাংক জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে যে, নকল পেজ বা সন্দেহজনক বার্তা পেলে তা ফেসবুকের রিপোর্ট ফিচার ব্যবহার করে চিহ্নিত করা হোক। এছাড়া, মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে অজানা ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠানোর আগে দ্বিগুণ যাচাই করা এবং কোনো ফি প্রদান না করা জরুরি।
বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে এই ধরনের স্ক্যাম মোকাবিলায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি নকল পেজ বন্ধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইডি ও ফোন নম্বরের মাধ্যমে অপরাধীদের ট্রেস করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা চায়, যাতে দ্রুত অপরাধী সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিশ্বব্যাংকের এই সতর্কতা দেশের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিকদের উচিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তথ্য যাচাই করা এবং কোনো সন্দেহজনক আর্থিক প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। স্ক্যাম প্রতিরোধে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য, যাতে আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক উদ্বেগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।



