দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, প্রধান কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করে শীর্ষ স্তরের ১৬জন কর্মকর্তাকে নতুন পদে স্থানান্তর করেছে। আদেশটি দুদকের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত, যা একই দিনে প্রকাশিত হয়।
বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং উপসহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ১৬জন নাম অন্তর্ভুক্ত। এই পদমর্যাদার পরিবর্তন দুদকের কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠন নির্দেশ করে।
উপপরিচালক পদে মোহাম্মদ ফয়সাল, আতিকুল আলম, আহসানুল কবীর পলাশ, মোজাম্মিল হোসেন, ফাতেমা সরকার এবং মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজীকে বদলি করা হয়েছে। এই ছয়জনকে দুদকের বিভিন্ন শাখা ও ইউনিটে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক পদে প্রবীর কুমার দাস, মুহাম্মদ জাফর সাদেক, শিবলী আব্দুল্লাহ আল নোমান, আহমদ ফরহাদ হোসেন, মো. নুর আলম, নীল কমল পাল এবং মুবাশ্বিরা আতিয়া তমাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের নতুন দায়িত্বের স্থান ও কাজের পরিধি আদেশে নির্ধারিত হয়েছে।
উপসহকারী পরিচালক পদে মো. আবুল কাইয়ুম হাওলাদার, জাকির হোসেন এবং সৈয়দ মাইদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। এই তিনজনকে দুদকের বিভিন্ন অঞ্চলে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
বদলি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদলি করা কর্মকর্তাদেরকে ঢাকা, খুলনা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখায় পুনঃনিয়োগ করা হবে। স্থানান্তরের ফলে প্রতিটি অঞ্চলে নতুন দায়িত্বশীল কর্মী উপস্থিত হবে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত এই আদেশটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ নীতির অধীনে নেওয়া হয়েছে। দুদকের প্রশাসনিক বিভাগ এই ধরনের বদলিকে নিয়মিত কর্মী পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে।
অফিস আদেশে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা না থাকলেও, বদলির পর কর্মকর্তারা নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। দুদকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, স্থানান্তরিত কর্মকর্তারা শীঘ্রই তাদের নতুন দপ্তরে দায়িত্ব পালন শুরু করবে।
এই ধরনের শীর্ষ স্তরের বদলি দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত নতুন দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থার নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, দুদকের এই পুনর্গঠন সরকারী অগ্রাধিকার ও আসন্ন নির্বাচন চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে, শুধুমাত্র সংস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুদকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বদলির পর নতুন দপ্তরে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ববণ্টন দ্রুত সম্পন্ন হবে। সংস্থার লক্ষ্য হল দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করা।
এই বদলির পর দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন দপ্তরে কর্মীদের অবহিত করা, কাজের পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা। সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে ত্বরান্বিত করা হবে।



