বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গোপীবাগে অনুষ্ঠিত এক কর্মিসভায় তরিক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণার পরপরই ধারাবাহিক সহিংস ঘটনা ঘটছে, যা পরিকল্পিত অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়—এমন দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এই সভা তরিক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সম্মানে আয়োজন করা হয়, যেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফিরে আসা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা এবং তরিকের ফিরে আসাকে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হিসেবে উপস্থাপন করা।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমাদের নেতা দেশে আসছেন, মানে হলো গণতন্ত্র দেশে ফিরে আসছে। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।” তিনি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
তরিক রহমানের ফিরে আসার পরিকল্পনা ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত ছিল, যা ১৩ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তার এক দিন আগে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিতে আহত হন; গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার মারা যান।
হাদির মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ছায়ানট সংস্কৃতি কেন্দ্রের ওপর হামলা হয়। এই হামলাগুলোকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রথম আলোর বিশ্লেষণ। মির্জা আব্বাস এই ঘটনাগুলোকে একত্রে তুলে ধরে বলেন, “আজকে কতগুলো পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দিলেন, কতগুলো প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিলেন—এরা কারা? ওরা কি দেশকে ভালোবাসে? এরা জাতির শত্রু, এরা দেশের শত্রু। এদেরকে থামাতে হবে।”
মির্জা আব্বাস আরও সতর্ক করেন, “বাংলাদেশের মানুষকে জিম্মি করে কতিপয় রাজনৈতিক দল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। পানি ঘোলা করে পরে মাছ শিকার করার ষড়যন্ত্র চলছে—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।” তিনি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেবেন না, এ কথাও জোর দিয়ে বলেন।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা রয়েছে। মির্জা আব্বাসের মতে, এই নির্বাচনকে বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্রের মুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা নির্বাচন দিয়েই দেব। এই দেশে নির্বাচন হবে।”
বিএনপি নেতারা তরিক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক নির্দেশক হিসেবে দেখছেন এবং একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। তরিকের ফিরে আসা এবং তার পরবর্তী ঘটনার ধারাবাহিকতা দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



