চট্টগ্রাম বিভাগের কর্ণফুলী জেলায় চর পাথরঘাটা এলাকায় গতকাল সন্ধ্যাবেলা কোস্টগার্ডের তীব্র অভিযান চলাকালীন নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং জাল তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয় এবং ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯) সহ ছয়জন স্থানীয় কারিগরকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানটি সন্ধ্যা ৭টার পরেই শুরু হয়; তল্লাশি শেষে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার সমমানের বারোটি ট্রলিং জাল ও জাল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই দিনে বিকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ধরা পড়া দলটির মধ্যে ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসের পাশাপাশি ছয়জন বাংলাদেশি কারিগর অন্তর্ভুক্ত। পণ্ডিত বিশ্বাস পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা এবং পূর্বে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন। তবে জামিনের শর্তে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার নিষিদ্ধ জাল তৈরির কাজে লিপ্ত হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পণ্ডিত বিশ্বাস স্বীকার করেন যে তিনি আর্টিসানাল ট্রলিং জাল তৈরির কাজের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানান, এই জালগুলো ছোট কাঠের ট্রলারে ইঞ্জিন যুক্ত করে ‘বেহুন্দি জাল’ নামে বিক্রি করা হয়, যা গভীর ও অগভীর সমুদ্রে রেণু‑পোনা, ডিম‑ওয়ালা মা‑মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জীবের প্রাকৃতিক খাবারকে ধ্বংস করে।
বৈধভাবে অনুমোদিত না হওয়া এই ধরনের ট্রলিং জাল দেশের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং তাই সরকারীভাবে নিষিদ্ধ। কোস্টগার্ডের মতে, এসব জাল ব্যবহারকারী নৌকা ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোট’ নামে পরিচিত, যা ছোট কাঠের ট্রলার সঙ্গে ইঞ্জিন যুক্ত করে দ্রুত গতি অর্জন করে এবং মাছের ডিম ও তরুণ পোকামাকড়কে সরাসরি ধ্বংস করে।
ধরা পড়া জাল ও সরঞ্জামগুলোকে জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হক উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতেও কোস্টগার্ড এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে থাকবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলোও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ ট্রলিং জালের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের ওপর কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।
কর্ণফুলীর এই অভিযান দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার জন্য গৃহীত এক সিরিজ পদক্ষেপের অংশ, যা সাম্প্রতিক মাসে বাড়তে থাকা অবৈধ ট্রলিং কার্যক্রমের মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে। কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক নজরদারি ও তদারকি নিশ্চিত করবে যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো অবৈধ কারখানা পুনরায় কার্যক্রম চালু করতে পারবে না।
অবশেষে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, আদালত কী রায় দেবে তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে। কোস্টগার্ডের এই সফল অভিযান দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



