ঢাকায় গত রাত ৮:৩০ টার দিকে করওয়ান বাজারের সুপার স্টার হোটেলের কাছে জয়েন্ট ভলান্টিয়ার শাখা, ঢাকা সিটি নর্থ স্বেচ্ছাসেবক দলে সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অপরিচিত আক্রমণকারীরা মুসাব্বিরকে গুলি করে মেরে ফেলেছে এবং আরেকজনকে আঘাত করে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তীব্র মন্তব্যের সূত্রপাত করে।
ফখরুলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ শাসনকালের পতনের পর পুনরায় উত্থিত অপরাধী গোষ্ঠী দেশকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করছে। তিনি মুসাব্বিরের হত্যাকে “ভয়ঙ্কর এবং নৃশংস আক্রমণ” বলে উল্লেখ করে, এটি বর্তমান interim সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়ে interim সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করতে চায়” এবং এ ধরনের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যে তিনি সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য রাজনৈতিক পার্থক্য নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”। অন্যথায়, তিনি সতর্ক করেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের মিত্ররা উঠে দেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে”।
ফখরুল মুসাব্বিরের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে উদাহরণস্বরূপ শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মুসাব্বিরের হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি না হয়”।
মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময়, তার সঙ্গে থাকা আরেকজন ব্যক্তি গুলিতে আহত হন; তবে তার অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত তদন্ত শুরু করে, তবে এখন পর্যন্ত অপরাধীদের পরিচয় বা মোটিভ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের পর, interim সরকারের প্রতিনিধিরা এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে নিরাপত্তা বিভাগকে ঘটনাটির দ্রুত সমাধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, মুসাব্বিরের মতো স্বেচ্ছাসেবক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে এবং বিরোধী দলের সংগঠনকে দুর্বল করতে।
বিএনপি এই ঘটনার পর দেশজুড়ে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে মুসাব্বিরের পরিবার এবং সমর্থকরা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরবে। একই সঙ্গে, দলটি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর চাপ বাড়াবে।
অপরদিকে, কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও এই ঘটনার পর তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছে; তবে সেগুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে, যদি দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হয়, তবে এটি সরকারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে। তাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হতে পারে।



