27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি সরাসরি কথোপকথনও সম্ভব

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি সরাসরি কথোপকথনও সম্ভব

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সংযোগ এবং ক্রিকেট বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক যদিও বন্ধুত্বপূর্ণ, তবু প্রয়োজনে সরাসরি, চোখে চোখ রেখে আলোচনা করা সম্ভব।

সাক্ষাৎকারের সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মর্যাদা যদি কোনো দেশের আচরণে হানিকর হয়, তবে সরকার যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই প্রতিক্রিয়া সরকারী চ্যানেলের মাধ্যমে প্রদান করা হবে এবং তা দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি হল সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, এবং এ দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতকে দেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ থাকবে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, কোনো সময়ে যদি ভারতের কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশের গৌরব বা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, তবে বাংলাদেশ তার স্বার্থ রক্ষার জন্য যথাযথ রেসপন্স নেবে। এই রেসপন্সের অর্থ হল সরকারী স্তরে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বীকৃতি বাড়াবে।

উল্লেখযোগ্য যে, তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, সরকারী প্রতিক্রিয়া এক স্থানে প্রদর্শিত হওয়া মানে এই নয় যে সব ক্ষেত্রে একই রকম মনোভাব বজায় থাকবে। প্রতিটি পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে, যা দেশের স্বার্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়েও মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, খেলাধুলার ক্ষেত্রেও দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচয়কে শক্তিশালী করবে।

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক দরবারে বাংলাদেশ তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করবে, যাতে দেশের গৌরব ও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

মাধ্যমিক নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি কোনো প্রার্থী বা দল প্রমাণ করতে পারে যে রিটার্নিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করেছেন, তবে নির্বাচন কমিশন তা তদন্ত করবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রমাণের যথার্থতা ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে এবং যথাযথ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। এই সুপারিশের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হল সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, এবং এই নীতি অনুসরণে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রকারের চ্যালেঞ্জ বা বিরোধ দেখা দিলে, সরকার দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নেবে।

সারসংক্ষেপে, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করে বললেন, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি, চোখে চোখ রেখে আলোচনা করা সম্ভব, এবং দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments