27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন সীমিত করেছে ভারতীয় পর্যটক ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন সীমিত করেছে ভারতীয় পর্যটক ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের কোলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত ডেপুটি হাইকমিশনগুলো ৮ জানুয়ারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা ইস্যু সীমিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের আগে দিল্লি, ত্রিপুরার আগরতলা ও আসামের গোহাটিতে অবস্থিত হাইকমিশন ও ডেপুটি হাইকমিশনগুলোও একই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতেই এই তথ্য নিশ্চিত করা হয় এবং পরের দিন থেকে কার্যকর করা হয়। ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা ছাড়া সব ধরনের ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটক, ছাত্র, পরিবারিক ও চিকিৎসা ব্যতীত অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীরা এখন কোনো সেবা পাবে না।

এই পদক্ষেপের পেছনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান উল্লেখযোগ্য। সেই সময়ে শীর্ষ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে চারটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র ধ্বংসের শিকার হয় এবং ঢাকায় ভিসা সেন্টারের সামনে প্রতিবাদে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত কয়েক দিনের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা সেবা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে ভিসা কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হলেও মেডিকেল ভিসা ও জরুরি প্রয়োজনীয়তা ছাড়া অন্য সব ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে পর্যটক ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, আর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা ইতিমধ্যে বন্ধ।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ভিসা সীমাবদ্ধতা কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং সীমান্ত পারাপারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্যালকাটা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়িক সংযোগের ওপর প্রভাব পড়বে। তবে ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা চালু থাকায় কিছু মূল বাণিজ্যিক লেনদেন অব্যাহত থাকবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে এখন ভিসা নীতি পুনর্বিবেচনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। উভয় পক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো পরস্পরের উদ্বেগ শোনার এবং পারস্পরিক সুবিধা বজায় রাখার জন্য সমঝোতা চায়। ভবিষ্যতে ভিসা নীতি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে কিনা তা নির্ভর করবে উত্তেজনা হ্রাস এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে ভিসা নীতি পরিবর্তন কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক রুট, পর্যটন প্রবাহ এবং শ্রমিক সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রভাব স্পষ্ট। তাই ভিসা নীতি পুনরায় সমন্বয় করা হলে তা কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশি ডেপুটি হাইকমিশনগুলো ৮ জানুয়ারি থেকে ভারতীয় পর্যটক ভিসা ইস্যু সীমিত করেছে, নিরাপত্তা ও উত্তেজনা বিবেচনা করে। ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা চালু থাকলেও অন্যান্য সব ভিসা বন্ধ, যা দুই দেশের পারস্পরিক চলাচল ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments