ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড. ইভার্স আইজাবস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২০০ সদস্যের একটি দল পাঠাবেন, এ কথা তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পরে জানিয়েছেন। এই পর্যবেক্ষণ দল দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
বৈঠকের সময় ড. আইজাবস উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যে ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং তাদের কাজের পরিধি নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তৃত। এই পর্যবেক্ষকরা ভোটার তালিকা যাচাই, ক্যাম্পেইন পর্যবেক্ষণ এবং প্রাথমিক ভোটিং সাইটের প্রস্তুতি মূল্যায়নে নিয়োজিত।
ড. আইজাবস জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘমেয়াদী দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। স্বল্পমেয়াদী দলটি মূলত ভোটের দিন এবং ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত থাকবে, যাতে ভোটের গোপনীয়তা ও ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের মোট সদস্যসংখ্যা ২০০, যার মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তিগত কর্মী অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল দলটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সমানভাবে বিতরণ হবে, যাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রমের উপর নজর রাখা যায়।
ড. আইজাবস উল্লেখ করেন, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে গণভোটের আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। দু’টি প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালনা করতে হলে ভোটার তালিকা, ভোটিং মেশিন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় যথাযথভাবে করতে হবে।
কমিশনকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে ড. আইজাবস আশাবাদ প্রকাশ করেন যে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যবেক্ষক দলটি পুরো প্রক্রিয়ার সময় কমিশনের কাজের পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন, তাদের কাজ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে এবং কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে কোনো সংযোগ থাকবে না। এই নীতি অনুসরণ করে তারা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, এ কথা ড. আইজাবস পুনরায় উল্লেখ করেন। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ড. আইজাবস বলেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পুনর্গঠন এবং জনমতের নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সংসদ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, এ বিষয়ে ড. আইজাবসের মন্তব্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ দল দেশের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের অধিকার রক্ষা, ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কোনো অনিয়মের দ্রুত সনাক্তকরণে কাজ করবে। এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ইইউয়ের ২০০ সদস্যের পর্যবেক্ষণ দল বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সমন্বিত প্রক্রিয়ার উপর নিবিড় নজর রাখবে, যাতে নির্বাচনের ফলাফল বৈধতা ও স্বচ্ছতা পায় এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।



