মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২৫টি নতুন দেশকে তালিকাভুক্ত করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য B1/B2 ভিসা আবেদনকালে সর্বোচ্চ $১৫,০০০ বন্ড জমা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা বহু নাগরিকের আর্থিক বোঝা বাড়বে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বন্ডের পরিমাণ $৫,০০০, $১০,০০০ অথবা $১৫,০০০ হতে পারে, যা আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov এর মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। নতুন নীতি ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার বেশিরভাগই আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ।
বহিরাগত বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত অনুতাপজনক” বলে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এটিকে অস্বাভাবিক নয় বলে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশে আরোপিত নয়; ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। আমার দৃষ্টিতে এটি অস্বাভাবিক নয়, তবে অবশ্যই অনুতাপজনক এবং আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবে।”
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেছেন, “ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত এই নীতি সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তবে বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছে।” তিনি সরকারের এই অবস্থানকে জোর দিয়ে বলছেন যে, দেশের নাগরিকদের বৈধ ভ্রমণ ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য তারা আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। বন্ডের মাধ্যমে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য অবৈধ প্রবেশের ঝুঁকি হ্রাস করা এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নীতি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে উপদেষ্টা হোসেনের মন্তব্যের পাশাপাশি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
এই নীতির ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণ, শিক্ষা ও ব্যবসা সংক্রান্ত পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থান খোঁজে, তাদের জন্য বন্ডের পরিমাণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, এই নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থাকায়, দু’দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি শুধুমাত্র ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার আর্থিক শর্ত বাড়ায় না, বরং আবেদনকারীর পটভূমি ও উদ্দেশ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকেও কঠোর করে। ফলে, ভিসা প্রাপ্তি প্রক্রিয়ায় সময়সীমা বাড়তে পারে এবং আবেদনকারীর প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের সরকার ইতিমধ্যে এই নীতির প্রভাব কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালু করেছে। ভবিষ্যতে বন্ডের পরিমাণ কমানো বা ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা দেশের নাগরিকদের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতি বাংলাদেশে অনুতাপজনক প্রভাব ফেললেও, সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে নীতির কার্যকারিতা এবং তার পরিণতি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে দেশের নাগরিকদের বৈধ ভ্রমণ ও কাজের সুযোগ সুরক্ষিত থাকে।



