22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসা২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা একই হারেই থাকবে

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা একই হারেই থাকবে

সরকার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রপ্তানি খাতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োগিত রপ্তানি প্রণোদনার হার ও শর্তাবলী পরবর্তী ছয় মাসের জন্য একই রকম বজায় থাকবে। অর্থাৎ, নতুন কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বর্তমান নীতিমালা চালু থাকবে।

নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রপ্তানি সংস্থাগুলিকে বর্তমানে প্রদান করা নগদ সহায়তার হার ও শর্তাবলী আগামী ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে। এই ধারাবাহিকতা রপ্তানি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

প্রজ্ঞাপনের স্বাক্ষরকারী হলেন অর্থ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজকে সহজতর করবে।

প্রজ্ঞাপনের প্রকাশের তারিখ ছিল বুধবার, ৭ জানুয়ারি। একই দিনে মনিটরিং সেল থেকে প্রকাশিত নোটিশে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। সরকার এই নোটিশের মাধ্যমে রপ্তানি খাতের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

এই নীতি পরিবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে চলতি বছরের নভেম্বরে রপ্তানি খাতের আর্থিক প্রণোদনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা। নভেম্বরের শেষের দিকে সরকার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনবে, বিশেষ করে পছন্দসই শুল্ক সুবিধা ও বাজার প্রবেশের ক্ষেত্রে। রপ্তানি সংস্থাগুলি এখন এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে, তবে একই সঙ্গে আর্থিক প্রণোদনা হ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিকল্প কৌশলও গঠন করতে হবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রাখার ফলে রপ্তানি সংস্থাগুলির নগদ প্রবাহে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ব্যাংকগুলোও এই ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে ঋণ ও ক্রেডিট সুবিধা প্রদান করতে সক্ষম হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রপ্তানি খাতের পরিকল্পনা ও বাজেটিং প্রক্রিয়ায় এই নীতি ধারাবাহিকতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ দেবে।

তবে, নভেম্বরের প্রণোদনা প্রত্যাহার ও এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার ফলে শুল্ক সুবিধা হ্রাসের সম্ভাবনা রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চাপ বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাগুলিকে পণ্যের মানোন্নয়ন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং মূল্য সংযোজনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা একই হারেই বজায় রাখার সিদ্ধান্ত রপ্তানি খাতের স্বল্পমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তবে নভেম্বরের প্রণোদনা প্রত্যাহার এবং এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক সুবিধা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করবে, যা ব্যবসায়িক কৌশলে সমন্বয় প্রয়োজন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments