বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নারী টিমের ট২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারসের জন্য ১৫ জনের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। স্কোয়াডে নতুন মুখ হিসেবে উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান জুয়ারিয়া ফেরদৌস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ফারজানা হক পিঙ্কি দীর্ঘ সময়ের পর আবার টিমে ফিরে এসেছেন।
জুয়ারিয়া ফেরদৌসের নির্বাচন তার সাম্প্রতিক গৃহম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। তিনি শেষ নারী ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এ ১৮৯ রান সংগ্রহ করেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ১৩১.২৫% ছিল। উনিশ বছর বয়সে তিনি ইউ-১৯ বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি উন্মুক্ত ও মধ্যম ক্রমে উভয়ই ব্যাটিং করেন। এনসিএল এবং প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পর, টিমের প্রধান সিলেক্টর সজ্জাদ আহমেদ শিপন তাকে পাওয়ারপ্লে সময়ে আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
ফারজানা হক পিঙ্কি, যিনি শেষ ট২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে মে ২০২৩-এ শ্রীলঙ্কা সফরের সময় খেলেছিলেন, তিনি আবার টিমে যোগদান করেছেন। এনসিএল-এ পিঙ্কি ৯৫ থেকে ১০০ স্ট্রাইক রেটের মধ্যে রান তৈরি করেন এবং কয়েকটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিং ক্ষমতা টিমের ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বিকল্প হিসেবে। সিলেক্টর উল্লেখ করেন, পিঙ্কি টিমের জন্য একটি নিরাপদ বিকল্প এবং তিনি দীর্ঘ সময়ের পর টিমে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
টিমের অন্যান্য নির্বাচিত খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছে বাটার, অলরাউন্ডার ও স্পিনার, তবে স্পিনার নিশিতা আক্তার নিশি ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হননি। এই সিদ্ধান্ত টিমের ব্যালেন্স বজায় রাখতে এবং আঘাতজনিত ঝুঁকি কমাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নারী টিমটি ট২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিছু সময়ের বিরতির পর আবার সক্রিয় হচ্ছে। শেষ ট২০ সিরিজটি ছিল পশ্চিম ইন্ডিজের সঙ্গে বাসেটেরে অনুষ্ঠিত, যা জানুয়ারি মাসে শেষ হয়েছিল। সিলেক্টর আশাবাদ প্রকাশ করে, টিমের পূর্ণ সদস্য হিসেবে আইসিসি কোয়ালিফায়ারসের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কোয়ালিফায়ারসের প্রথম ম্যাচটি গ্রুপ এ-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত। এই ম্যাচটি টিমের জন্য নতুন কৌশল পরীক্ষা করার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার সুযোগ হবে। টিমের প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে সময়ে কীভাবে আক্রমণ চালানো যায়, তা নিয়ে কেন্দ্রীভূত হবে।
সিলেক্টর সজ্জাদ আহমেদ শিপন উল্লেখ করেন, নতুন খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পুনরায় যোগদান টিমের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, টিমের লক্ষ্য কোয়ালিফায়ারসের সব ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছানো।
এই স্কোয়াডের গঠন এবং নির্বাচিত খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ নারী টিম টেকনিক্যাল ও মানসিকভাবে কোয়ালিফায়ারসের জন্য প্রস্তুত। দলটি এখনো পুরোপুরি সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, তবে নতুন মুখের উচ্ছ্বাস এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমর্থন টিমকে শক্তিশালী করে তুলবে।
কোয়ালিফায়ারসের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি ও ফলাফল অনুসরণ করে টিমের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা হবে, এবং টিমের কৌশলগত পরিবর্তনগুলোকে ভিত্তি করে পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে অগ্রসর হবে তা নির্ধারণ করা হবে।



