যশোরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ট্র্যাপ’ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে আজ (৮ জানুয়ারি) জজ এম এম মোর্শেদ কারাগারে পাঠের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে জমানো টাকা সরকারের ট্রেজারিতে জমা করার নির্দেশও অন্তর্ভুক্ত।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে দুদক তার নিজস্ব কার্যালয় থেকে ১,২০,০০০ টাকার সঙ্গে আশরাফুল আলমকে আটক করে। আটকের পর দুদক একই দিনে যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল‑আমিনের নামে একটি মামলা দায়ের করে।
দুদক জানায়, গত বুধবার বিকেলে তার দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে ‘ট্র্যাপ’ অভিযানের অংশ হিসেবে ফাঁদ পাতা। এই অভিযানটি দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত হয় এবং দুদকের উপ‑পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল‑আমিনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা ১,২০,০০০ টাকা জমানো অবস্থায় আশরাফুল আলমকে গ্রেপ্তার করে এবং জমানো অর্থকে সরকারী তহবিলে জমা করার নির্দেশ দেন। জমানো অর্থের রসিদ ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবীর অভিযোগ রয়েছে। নুরুন্নবী জানান, তিনি আশরাফুল আলমের কাছে তার স্ত্রীর পেনশন সংক্রান্ত নথি (ফাইল) ছাড় করার জন্য তিন মাস ধরে অনুরোধ করছিলেন, কিন্তু ধারাবাহিক অজুহাতের কারণে কাজটি অগ্রসর হয়নি।
নুরুন্নবীর মতে, আলমের কাছ থেকে ৮০,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, টাকা না দিলে পেনশনের টাকা ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
দুদকের সূত্রে বলা হয়েছে, নুরুন্নবী তিন মাস ধরে আলমের কাছে পেনশন ফাইলের জন্য অনুরোধ করলেও আলম নানা অজুহাতে বিষয়টি টলিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত আলম ৮০,০০০ টাকা গ্রহণ করেন এবং পরে আবারও অর্থের দাবি করেন।
আশরাফুল আলমের গ্রেপ্তারকে নিন্দা করে প্রাথমিক শিক্ষকেরা আজ (৮ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করে প্রতিবাদ করেন। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছুক্ষণ আগে আলম বাথরুমে যাওয়ার সময় ‘একটি পক্ষ’ তার টেবিলে টাকা রেখে গিয়েছিল, যা পরে ‘হাতেনাতে আটক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবাদকারীরা একই দাবি নিয়ে গতকাল (৭ জানুয়ারি) রাতেও দুদকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, আটককৃত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তি যথেষ্ট নয় এবং গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রয়েছে।
দুদক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুন্নবীর অভিযোগের ভিত্তিতে আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু হয় এবং প্রমাণের অভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে দুদক জোর দিয়ে বলেছে, ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে নেওয়া হবে।
আদালতের আদেশের পর, আশরাফুল আলমকে জেলখানায় পাঠানো হবে এবং জমানো অর্থের সম্পূর্ণ পরিমাণ সরকারী ট্রেজারিতে জমা হবে। দুদক বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথি আদালতে উপস্থাপন করবে।
এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে দুদক ও জেলা প্রশাসন উভয়ই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেবে। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।



