ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি (আইসিসিবি), বসুন্ধরায়, বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রাণি স্বাস্থ্য মেলা শুরু হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মেলাটির সূচনা করেন। মেলা পুষ্পগুচ্ছ হলে অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সংস্থা অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) মেলাটির সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রকাশ করেছে।
ফরিদা আখতারের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণিকে শুধুমাত্র খাদ্যের উৎস হিসেবে না দেখে তার স্বাস্থ্যের, খাদ্যের এবং পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাছ, পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে রোগের নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান এবং নিরাপদ ফিডের বিষয়গুলো এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বক্তা গবেষণার গুরুত্বেও আলোকপাত করেন, বিশেষ করে মাছের টিকাদান ও নিরাপদ ফিড উৎপাদনের ক্ষেত্রে গবেষণা শক্তিশালী করা দরকার। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে দায়িত্বশীল উৎপাদনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের মেলাটির সময়ে প্রাণি স্বাস্থ্যের জন্য একটি পৃথক ড্রাগ আইন প্রণয়ন এবং স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাণি স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
আহকাবের মতে, মেলাটির মূল লক্ষ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো, প্রযুক্তি বিনিময়কে ত্বরান্বিত করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ বছর মেলায় বিশ্বের ১৪টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে, যার মধ্যে চীন, ভারত, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, মিশর ও রোমানিয়া উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার লক্ষ্যে ১২৮টি বিদেশি স্টল এবং ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক উপস্থিত রয়েছে।
স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় প্রাণি স্বাস্থ্য ও মৎস্য সংস্থাগুলিও তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করছে। মেলাটি শিল্পের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও গবেষণার ফলাফল সরাসরি কৃষক ও উৎপাদকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
প্রদর্শনী চলাকালীন বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালারও আয়োজন করা হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান কৌশল এবং নিরাপদ ফিড ব্যবহারের ওপর তথ্য শেয়ার করবেন। এই ধরনের জ্ঞানবিনিময় স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
মেলা শেষের দিকে, অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাণি স্বাস্থ্য খাতের গুণগত মান উন্নত করার সম্ভাবনা ব্যাপক। ভবিষ্যতে এমন মেলাগুলি নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে, দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে।
প্রাণি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতি ও নিয়মাবলী শক্তিশালী করতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। এই মেলাটি সেই সমন্বয়ের সূচনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
আপনার মতামত কী? আপনার কৃষি বা মৎস্য ব্যবসায় এই ধরনের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের কী ধরনের সুবিধা দেখতে পাচ্ছেন?



