নোভোএয়ার, বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন, তিন বছরের তীব্র প্রচেষ্টার পর ২০২৪ সালের মধ্যে একাধিক লিজের বিমান নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। এয়ারলাইনটি আগামী ১৫‑১৬ জানুয়ারি ডাবলিনে একটি দলে সফর করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে লিজ চুক্তি সম্পন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৩ সালে চালু হওয়া নোভোএয়ার, গত তিন বছর লিজের মাধ্যমে ফ্লিট বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন বিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে বিশ্বব্যাপী লিজযোগ্য বিমান ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিস্তৃত ফ্লিট গঠন এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের জন্য নোভোএয়ার প্রথমে ছয়টি বিদেশি গন্তব্যে সেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এই গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, শারজাহ, মাসকাট এবং দুবাই।
প্রাথমিকভাবে এয়ারলাইনটি এয়ারবাস A321 বিমান লিজের মাধ্যমে ফ্লিট বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। তবে A321 মডেলের ঘাটতি ও লিজের অপ্রাপ্যতা দেখা দিয়ে, পরিকল্পনা পরিবর্তন করে A320 সিরিজের বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে A320 লিজের জন্যও এখনো চুক্তি সম্পন্ন করা যায়নি, ফলে ফ্লিট সম্প্রসারণের কাজ এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নোভোএয়ার ACMI (Aircraft, Crew, Maintenance, Insurance) মডেল অনুসন্ধান করছে, যেখানে সম্পূর্ণ ক্রু ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিমান লিজ নেওয়া হয়।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB) ১৫ বছরের বেশি বয়সের বিমান লিজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা লিজযোগ্য পুরোনো বিমান বাজারে প্রবেশকে কঠিন করে তুলেছে। এই নিয়মাবলী নোভোএয়ারকে আধুনিক ও তরুণ বয়সের বিমান সংগ্রহে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
নোভোএয়ার প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট $৫০ মিলিয়ন বেশি মূলধন দিয়ে বিমান ক্রয় এবং অতিরিক্ত $১০ মিলিয়ন অবকাঠামো ও সহায়ক সরঞ্জামায় বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে ফ্লিট ও রুট বিস্তারের জন্য কোম্পানি $২৫ থেকে $৩০ মিলিয়ন পর্যন্ত অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এয়ারলাইনের ব্যবসায়িক নীতি সময়মতো উড্ডয়ন এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এই নীতির ভিত্তিতে নোভোএয়ার তার সেবা মান বজায় রাখতে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
নোভোএয়ার ৯ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে প্রথম উড্ডয়ন চালু করে, এবং আগামীকাল তার ১৪তম কার্যবছর উদযাপন করবে। এয়ারলাইনটি এই মাইলফলককে নতুন ফ্লিট গঠন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের সূচনাবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
সারসংক্ষেপে, নোভোএয়ার ডাবলিনে লিজ চুক্তি সম্পন্ন করে ফ্লিট বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে, যদিও গ্লোবাল বিমান ঘাটতি এবং স্থানীয় নিয়মাবলী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক রুট এবং অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে এয়ারলাইনটি বাজারে তার অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।



