বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার মিডিয়াকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে তার নাম ও লোগো ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ ও ভুয়া আইডি তৈরি করে ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার স্ক্যাম বাড়ছে। এই ধরনের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট সতর্কতা জারি করেছে।
বিশ্বব্যাংক সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে ঋণ প্রদান করে না এবং কোনো আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয় না। এই নীতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করা স্ক্যামকারীরা ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ক্যামকারীরা বিশ্বব্যাংকের লোগো ও নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া পেজ তৈরি করে, যেখানে তারা “ঋণ প্রদান” বা “ফির বিনিময়ে অর্থ” পাওয়ার দাবি করে। এসব পেজে প্রায়শই সরকারী শৈলীর নকশা ও ভাষা ব্যবহার করা হয়, যাতে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির বিশ্বাস জাগে।
এই ভুয়া পেজগুলোতে প্রায়শই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের লিংক শেয়ার করা হয়, অথবা সরাসরি মোবাইল রিচার্জ, এজেন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে, স্ক্যামকারীরা “প্রি-ফি” বা “সিকিউরিটি ফি” নামের আড়ালে অগ্রিম অর্থ চায়, যা পরবর্তীতে কোনো ঋণ না দিয়ে হারিয়ে যায়।
বিশ্বব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে যে, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা তার পক্ষ থেকে সরাসরি ঋণ প্রদান করতে পারে না, এবং কোনো আর্থিক তথ্য চাওয়া হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জালিয়াতি। তাই, এমন কোনো অনুরোধ পেলে তা অবিলম্বে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
সতর্কতা জানিয়ে বিশ্বব্যাংক সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়েছে যে, যদি তারা এমন কোনো ফেসবুক পেজ, আইডি বা বার্তা পায়, তবে তা উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জরুরি হটলাইন ও স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের নম্বর ব্যবহার করে দ্রুত রিপোর্ট করা যেতে পারে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের স্ক্যাম সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে এবং বিশেষ করে নগর এলাকায় সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্ক্যামকারীরা প্রায়শই ভুয়া সাফল্যের গল্প শেয়ার করে, যাতে মানুষকে প্রলুব্ধ করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বাধ্য করে।
বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তার কোনো প্রকল্প বা উদ্যোগের সঙ্গে এই ধরনের কোনো সংযোগ নেই। তাই, কোনো প্রকল্পের নাম বা লোগো ব্যবহার করে করা দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি মিডিয়ার কাছে বৃহস্পতিবারই পাঠানো হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কিছু সন্দেহজনক পেজের তদন্ত শুরু করেছে।
বাংলাদেশের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রতারণা অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য। ডেটা সিকিউরিটি ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, জালিয়াতি করা ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তাই, সন্দেহজনক কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বব্যাংকের এই সতর্কতা নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে এবং আর্থিক ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, অনলাইন লেনদেনে সতর্কতা বজায় রাখুন এবং কোনো সন্দেহজনক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।



