সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত টি২০ ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৪ উইকেটের পার্থক্যে নোয়াখালি এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে, এক ওভার বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে। নোয়াখালি ২০ ওভারে ১৫১ রান তৈরি করে, যা এই মৌসুমে প্রথমবার ১.৫০ রানের সীমা অতিক্রম করে।
দল দুটির মধ্যে ছয় দিনের বিরতির পর এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালি এক্সপ্রেসের বোলার মেহেদি হাসান প্রথম ওভারে লম্বা বল দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন, তবে রাজশাহীর ওপেনাররা দ্রুত রান সংগ্রহ করে। পরের ওভারে মোহাম্মদ নাবিরের বোলিংয়ে মাত্র তিন রান যোগ হয়।
রাজশাহীর ব্যাটিং লাইন‑আপের মধ্যে ফিরে আসা মুহাম্মদ ওয়াসিমের পারফরম্যান্স বিশেষ দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি ৩৫ বলে ৬০ রান করেন, যার মধ্যে চারটি চতুর্থ এবং তিনটি ছয়। ওয়াসিমের শক্তিশালী শুরুর পর, তিনি দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে ফিল্ডার মেহেদি হাসানের ব্যাক‑আপে বাধা পেয়ে বোলারকে পাশ কাটিয়ে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেন না এবং রান‑আউট হন। এই ঘটনার পর তিনি অম্পায়ারকে আপত্তি জানিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।
ওয়াসিমের অগ্রগতি সত্ত্বেও রাজশাহীর পায়ে চাপ বাড়ে না। পাওয়ার প্লে শেষের দিকে কিপার মাহিদুল ইসলামের চমৎকার ডাইভিং ক্যাচে নাজমুল হোসেনের এক রান রক্ষা করা হয়, যা দলের মনোবল বাড়ায়। ওয়াসিমের পর, মুশফিকুর সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ওয়াসিম জাহির খানের বোলিংয়ে ছক্কা মারেন এবং মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। পরের ওভারে তিনি মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে আরেকটি ছক্কা মারেন, তবে পরের বলেই তিনি আউট হন।
মুশফিকুর অবদানও উল্লেখযোগ্য; তিনি ১৯ বলে ২২ রান করেন, তবে অতিরিক্ত রানের জন্য তিনি যথেষ্ট পারফরম্যান্স দিতে পারেননি। এক ছক্কা মারার পর ইয়াসির আলি মাঠ ত্যাগ করেন, ফলে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ১ ওভার বাকি রেখে লক্ষ্য অতিক্রম করে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের বোলিং দিকের পারফরম্যান্সে মেহেদি হাসানের লম্বা বলের পরে তানজিদ হাসান (২০ বলে ২১ রান) পঞ্চম ওভারে আউট হন। তার পরের ওভারে আবু জায়েদ চৌধুরীর বোলিংয়ে ১৬ রান যোগ হয়, যা নোয়াখালির স্কোর বাড়াতে সহায়তা করে। তবে দলটি ধারাবাহিকভাবে হারের মুখে থাকে; এই মৌসুমে অর্ধ ডজন ম্যাচে সবই পরাজয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই জয় দলকে শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি বাড়ায়। পরবর্তী প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি এই জয়কে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে শীঘ্রই আবার মাঠে ফিরে আসবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যানের দিক থেকে, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ১৫১ রান ২০ ওভারে অর্জিত, যেখানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৫২ রান ১৯ ওভারে সম্পন্ন করে। ওয়াসিমের ৬০ রান দলকে শীর্ষে নিয়ে যায়, আর মুশফিকুর ২২ রান মাঝারি অবদান রাখে। উভয় দলের বোলারদের মধ্যে মেহেদি হাসানের বোলিং সবচেয়ে বেশি রান দেয়, তবে তিনি শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
এই ম্যাচটি রাজশাহীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার, যেখানে ছয় দিনের বিরতির পর দলটি শক্তি পুনরুদ্ধার করে, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ধারাবাহিক পরাজয়ের পরেও জয়লাভ করে। ভবিষ্যতে দলটি এই জয়কে ভিত্তি করে আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবে।



