কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক কিলোমিটার পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চালু করার চেষ্টা করে। কাজটি রাতের অন্ধকারে শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষজন উদ্বেগ প্রকাশ করে। বেজিবি (বাংলাদেশ গার্ড) এই কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করে, ফলে কাজটি থেমে যায়।
সড়কটি আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪ এর ১ এস থেকে ১১ এস পর্যন্ত বিস্তৃত, যা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় অবস্থিত। সীমান্তের কাছাকাছি এই পথের দূরত্ব বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ৫০ থেকে ১২০ গজ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়, যেখানে কিছু অংশ মাত্র ৭০ গজ দূরে। পূর্ব পাশে পাকা সড়কের কাজ কয়েক দিন আগে শুরু হয়েছিল, আর বিএসএফের নজরে রাতের অন্ধকারে কিছু অংশে কাজ চালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মজির রহমান ও নুর আলম লিপু জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে বিএসএফের সদস্যরা পুরাতন সড়কের পাশে নতুন পাকা সড়কের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বলেন, কাজটি অল্প আলোতে এবং গোপনীয়ভাবে করা হচ্ছিল, ফলে আশেপাশের মানুষজনের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ে। এই তথ্য বেজিবি ক্যাম্পের নজরে এলে, তারা টহল বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লিপ্ত হয়।
বেজিবি-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্পের কমান্ডার আবু তাহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বেজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সীমান্তে চলমান সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং কাজের অগ্রগতি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকের পর বেজিবি টহল দল সীমান্তে উপস্থিত থাকে, যাতে কোনো অবৈধ কাজ পুনরায় শুরু না হয়।
বিএসএফের কাজ থামার পরও তারা মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যায়। শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নরেশ চন্দ্র রায় জানান, বিএসএফ নতুন সড়ক গড়ার জন্য মাটি ভর্তি করছে, তবে বেজিবি দ্রুতই টহল বাড়িয়ে সরঞ্জামগুলো সরিয়ে নেয়। রায়ের মতে, গত বুধবার সন্ধ্যায়ও বিএসএফের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়, তবে বেজিবি নিয়মিত টহল চালিয়ে সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।
বেজিবি টহল দল সড়ক নির্মাণের কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার পর, কাজের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে যায়। এবারের ঘটনা সীমান্তে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি এবং সীমান্তে অবকাঠামো প্রকল্পের স্বচ্ছতা না থাকায় ভবিষ্যতে এমনই সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সীমান্তের অবকাঠামো কাজ দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়, যা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে সীমান্তে অনধিকৃত কাজ পুনরায় শুরু হতে পারে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বেজিবি কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কাজটি সাময়িকভাবে থেমে গেলেও, ভবিষ্যতে উভয় দেশের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন। এধরনের আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তের অবকাঠামো প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও অবকাঠামো বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় সভা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সভায় সড়ক নির্মাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সীমান্তের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনা করে একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, খলিশাকোঠাল সীমান্তে বিএসএফের রাতারাতি সড়ক নির্মাণের প্রচেষ্টা বেজিবির হস্তক্ষেপে থেমে গেছে। উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় ও পারস্পরিক সমঝোতা ভবিষ্যতে অনুরূপ সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



