চীনের প্রভাবশালী প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা, আরলি রেইন কভেন্যান্ট চার্চ, মঙ্গলবার চেংদু শহরে গির্জা অফিস ও সদস্যদের বাড়িতে পুলিশ আক্রমণ করে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন বুধবার পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন। একই সময়ে, প্রায় এক হাজার মাইল দূরে ওয়েঞ্জোউ শহরে ইয়ায়াং গির্জার ভবন ধ্বংসের কাজ শুরু হয়, যা ধর্মনির্যাতন পর্যবেক্ষণকারী অ-লাভজনক সংস্থা চায়না এডের ভিডিওতে দেখা যায়।
এই ঘটনাগুলি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ধর্মনিয়ন্ত্রণ নীতির নতুন এক পর্যায়ের সূচক হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন। পার্টি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমকে রাষ্ট্র-অনুমোদিত গির্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে এবং অ-অনুমোদিত গির্জা, বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ গির্জা আন্দোলনকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২০১৮ সালে সরকার ৪৪ মিলিয়ন খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রকাশ করলেও, এই সংখ্যায় ভূগর্ভস্থ গির্জার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত কিনা তা স্পষ্ট নয়।
চীনের ধর্মনিয়ন্ত্রণের তীব্রতা বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন। এক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষক বলেন, “চীনের ধর্মীয় নীতি এখন কেবল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে টানাপোড়েনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে,” এবং উল্লেখ করেন যে গির্জা নেতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও ভবন ধ্বংসের পদ্ধতি পূর্বের সতর্কতা, জরিমানা ও শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করার ধাপের তুলনায় অনেক দ্রুত হয়েছে।
চেংদুতে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গির্জার উচ্চপদস্থ নেতারা অন্তর্ভুক্ত, যা গির্জার অভ্যন্তরে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। গির্জার প্রধান লি ইয়িংকিয়াং, যিনি সম্প্রতি একটি চিঠিতে গির্জার সদস্যদেরকে “আসন্ন ঝড়ের” প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার পূর্বাভাস এখন বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে হয়। তিনি লিখেছিলেন, “আমি প্রার্থনা করি যে আমাদের পরিবার কখনো আবার এমন ঝড়ের মুখোমুখি না হয়; তবু আমি প্রভুর দ্বারা নিযুক্ত একজন প্রবীণ হিসেবে আপনাদের সতর্ক করতে বাধ্য বোধ করছি,” এবং এই চিঠি গির্জার অভ্যন্তরে ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হয়েছিল।
গির্জা নেতাদের গ্রেফতার ও ভবন ধ্বংসের পাশাপাশি, চীনের দূতাবাসকে যুক্তরাজ্যের বিএবিসি এই বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চীনের ধর্মনিয়ন্ত্রণ নীতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যখন গির্জা নেতাদের দ্রুত গ্রেফতার এবং পূর্বে দেখা সতর্কতা ও জরিমানা প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি আটক করা হচ্ছে।
চীনের ধর্মীয় নীতি ও গির্জা আন্দোলনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চীনের নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, চীনের সরকার ধর্মীয় বিষয়কে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।
এই ঘটনাগুলি চীনের ধর্মনিয়ন্ত্রণের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। গির্জা নেতাদের দ্রুত গ্রেফতার, ভবন ধ্বংস এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বাড়তি চাপের ফলে, ভূগর্ভস্থ গির্জা আন্দোলনকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই প্রবণতাকে সতর্কতা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
চীনের ধর্মনিয়ন্ত্রণ নীতি এবং গির্জা আন্দোলনের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ফলে, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্ব বাড়ছে। গির্জা নেতাদের গ্রেফতার ও ভবন ধ্বংসের ঘটনা, চীনের ধর্মীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের মধ্যে টানাপোড়েনের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।



