বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৪৮ ঘণ্টা দীর্ঘ সমন্বিত অভিযান শেষে সুনদরবনের মসুম গ্যাংকে ধ্বংস করে দুইজন পর্যটক ও গলকানন রিসোর্টের মালিককে মুক্ত করে।
১ জানুয়ারি রাতের দিকে গলকানন রিসোর্টের মালিক ও দুইজন পর্যটককে কাঞ্চারখালির নিকটবর্তী কাঠের নৌকায় দস্যুদের দ্বারা অপহরণ করা হয়। দস্যু দল রিক্সাম দাবি করে, তবে রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা দ্রুত কোস্ট গার্ডকে জানায়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার সিয়াম-উল-হাকের মতে, অপহরণ তথ্য পাওয়ার পরই গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও আর্থিক ট্র্যাকিং ব্যবহার করে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
দুই দিন পর, সমন্বিত অনুসন্ধান ও গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তিরা নিরাপদে উদ্ধার হয় এবং দস্যু গ্যাংয়ের বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে কুড্ডুস হাওলাদার (৪৩), মোহাম্মদ সালাম বক্স (২৪), মেহেদি হাসান (১৯), আলম মৎবর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মোহাম্মদ ইফাজ ফকির (২৫), জয়নাবি বিবি (৫৫) ও মোচা ধ্রিদা (৫৫)। এরা সুনদরবন, ডাকোপ ও খুলনা সহ বিভিন্ন স্থানে ধরা পড়ে।
গ্যাংয়ের নেতা মসুম মৃধা, ২৩ বছর বয়সী, ৭ জানুয়ারি গাজি ফিশারিজ এলাকায় গৃহযুদ্ধের সময় গ্রেফতার হন। তার গ্রেফতার গ্যাংয়ের কাঠামো ভেঙে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুসন্ধানের সময় কোস্ট গার্ড তিনটি দেশীয় তৈরি এক-শট গন, আটটি লাইভ গুলি, চারটি ফাঁকা গুলি, একটি চীনা মাচেট, দুইটি দেশীয় তৈরি কুঠার ও একটি তলোয়ার উদ্ধার করে। এছাড়া অপহৃতদের পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি কব্জি ঘড়ি পুনরুদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে এবং দস্যু কার্যক্রমের জন্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তকর্তারা অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান সুনদরবনে দস্যু কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো হবে।
অভিযানের ফলে রিসোর্টের মালিক ও পর্যটকরা নিরাপদে ফিরে এসেছেন এবং তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যটন শিল্পের উপর এই ঘটনার প্রভাব কমাতে দ্রুত পুনরুদ্ধার কাজ চালু করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মুখ্য কর্মকর্তা ভবিষ্যতে সুনদরবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত গার্ড ও নজরদারি ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
এই ঘটনায় দস্যু গ্যাংয়ের কাঠামো ভেঙে যাওয়ায় সুনদরবনে পর্যটক নিরাপত্তা ও স্থানীয় ব্যবসার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



