কানাডায় ১৯৬২ সালে প্রথম তৈরি হওয়া হাওয়াইয়ান পিজ্জা, পাইনঅ্যাপেল, টমেটো, মোজারেলা চিজ এবং মাংসের বিকল্প টপিংসহ পরিবেশন করা হয়। এই পিজ্জা আজও রন্ধনপ্রেমীদের মধ্যে উভয়ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সমর্থকরা এটিকে নতুন স্বাদের উদ্ভাবন বলে প্রশংসা করেন, আর বিরোধীরা এটিকে রন্ধনশৈলীর অপরাধ হিসেবে নিন্দা করেন। পাইনঅ্যাপেল যুক্ত পিজ্জা নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি, এবং এই বিতর্কে নতুন তরুণদের মতামতও যোগ দিচ্ছে।
হাওয়াইয়ান পিজ্জার ধারণা কানাডিয়ান রেস্টুরেন্টে উদ্ভূত হয়, যেখানে পাইনঅ্যাপেলকে টমেটো ও চিজের সঙ্গে মিশিয়ে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি করা হয়। ১৯৬২ সালের সেই রেসিপি থেকে আজ পর্যন্ত এই পিজ্জা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে মেনুতে যুক্ত হয়েছে। মূলত পাইনঅ্যাপেল, টমেটো সস, মোজারেলা চিজ এবং মাংসের বিকল্প (যেমন হ্যাম বা বেকন) দিয়ে তৈরি এই খাবারটি দ্রুতই জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
পাইনঅ্যাপেল যুক্ত পিজ্জার স্বাদে মিষ্টি ও লবণাক্তের মিশ্রণ দেখা যায়, যা কিছু ভোক্তার জন্য আকর্ষণীয়, আবার অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। পিজ্জার নরম ক্রাস্টে গলে যাওয়া চিজের সঙ্গে পাইনঅ্যাপেলের রসালো মিষ্টি স্বাদ একসাথে মিশে একটি অনন্য টেক্সচার তৈরি করে। এই স্বাদ সংমিশ্রণই মূলত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে কিছু মানুষ এটিকে স্বাদে সমৃদ্ধ বলে স্বীকার করে, আর অন্যরা এটিকে পিজ্জার ঐতিহ্যের বিকৃতি হিসেবে দেখে।
বিশেষ করে তরুণ ভোক্তাদের মধ্যে হাওয়াইয়ান পিজ্জার প্রতি উত্সাহ বাড়ছে। ২১ বছর বয়সী এক তরুণ, পিজ্জা প্রেমিক, পাইনঅ্যাপেল টপিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “মিষ্টি আর লবণাক্তের মিশ্রণ নিয়ে এত আলোচনা কেন?” তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “দই-ফুচকা বা লবণাক্ত ক্যারামেল পপকর্নের স্বাদে যদি অভ্যস্ত হই, তবে পাইনঅ্যাপেল পিজ্জা তেমনই স্বাদযুক্ত হতে পারে।” তার মন্তব্যে দেখা যায়, স্বাদে নতুনত্বের প্রতি স্বাগত ও সংশয় উভয়ই সমানভাবে বিদ্যমান।
বিরোধীরা পাইনঅ্যাপেলকে পিজ্জার মূল স্বাদকে নষ্টকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা যুক্তি দেন, পিজ্জার চিজ ও টমেটোর সঙ্গে মিষ্টি ফলের রস মিশ্রণ স্বাদে অমিল সৃষ্টি করে, যা ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় রেসিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া, পাইনঅ্যাপেলকে কখনও কখনও অতিরিক্ত মিষ্টি হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চিজের লবণাক্ত স্বাদের সঙ্গে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাইনঅ্যাপেল টপিংকে রন্ধনশৈলীর ‘সাবোটাজ’ বলা হয়।
পিজ্জার বিবর্তনকে বিবেচনা করলে হাওয়াইয়ান পিজ্জা একধরনের উদ্ভাবন হিসেবে দেখা যায়। স্টাফড ক্রাস্ট, ডিপ ডিশ, গ্লুটেন-ফ্রি বা ফুলকপি ক্রাস্টের মতো বিভিন্ন রূপে পিজ্জা আজকের বাজারে পাওয়া যায়, যদিও এসব পরিবর্তন নেপলসের ঐতিহ্যবাহী রেসিপি থেকে নয়। এই পরিবর্তনগুলোকে রন্ধনশৈলীর ‘জ্যাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা পাইনঅ্যাপেল টপিংকে অতিরিক্ত সমালোচনার শিকার করে। তবে, রন্ধনশৈলীর এই ধারাবাহিক পরিবর্তনই পিজ্জাকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, খাবারের পছন্দে ব্যক্তিগত স্বাদ ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, এবং অন্যের পছন্দকে নিন্দা করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি খাবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো নৈতিক দোষে বিশ্বাস করি না; প্রত্যেকের স্বাদ ভিন্ন, তাই প্রত্যেকের পছন্দকে সম্মান করা উচিত।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাইনঅ্যাপেল পিজ্জা নিয়ে বিতর্ককে ব্যক্তিগত রুচির পার্থক্য হিসেবে দেখা যায়, ন্যায়বিচারমূলক সমালোচনা নয়।
সারসংক্ষেপে, পাইনঅ্যাপেল টপিংযুক্ত পিজ্জা রন্ধনপ্রেমীদের মধ্যে উভয়ধরনের উচ্ছ্বাস ও সমালোচনা উত্থাপন করে চলেছে। হাওয়াইয়ান পিজ্জার উৎপত্তি, স্বাদের বৈশিষ্ট্য এবং আধুনিক পিজ্জার বিভিন্ন রূপের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, এই বিতর্কের মূল কারণ স্বাদে মিষ্টি ও লবণাক্তের সংঘাত। যদিও কিছু ভোক্তা এটিকে স্বাদে সমৃদ্ধ বলে স্বীকার করেন, অন্যরা ঐতিহ্যবাহী রেসিপির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বলে সমালোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত, খাবারের পছন্দ ব্যক্তিগত, এবং পাইনঅ্যাপেল পিজ্জা নিয়ে আলোচনা রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
পাইনঅ্যাপেল পিজ্জা নিয়ে মতবিরোধের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে নতুন স্বাদ পরীক্ষা ও রন্ধনশৈলীর উদ্ভাবনের দিকে ইঙ্গিত করে। রন্ধনপ্রেমীরা যদি স্বাদে নতুনত্বের সন্ধান চালিয়ে যান, তবে পাইনঅ্যাপেল টপিংও হয়তো একদিন স্বাভাবিক স্বাদ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবুও, বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি রন্ধনশৈলীর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত পছন্দের মেলবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।



