ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী মো. হাসান শাহাদাতের নির্দেশে আজ প্রথাম আলো অফিসে ২২ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে সংঘটিত ধ্বংস ও অগ্নিকাণ্ডের মামলায় আটজন সন্দেহভাজনকে দুই দিনের রিম্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। আদালতে পুলিশ পক্ষ থেকে সাত দিনের রিম্যান্ডের আবেদন উপস্থাপন করা হয়, যার পর রিম্যান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়।
রিম্যান্ডে পাঠানো আটজনের নাম ও বয়স নিম্নরূপ: নঈম ইসলাম (২৫), সাইদুর রহমান (২৫), আবুল কাশেম (৩৩), প্রান্তো সিকদার (২১), রাজু আহমেদ (৩৩), সাগর ইসলাম (৩৭), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (২৮) এবং মোহাম্মদ হাসান (২২)। এদের সকলকে আদালতে উপস্থিত করা হয় এবং রিম্যান্ডের শর্তে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাওয়া হবে।
প্রথাম আলো এই ঘটনার পর টেজগাঁও থানা-তে ২২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আদেশের ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আক্রমণে প্রথাম আলোয়ের সম্পত্তি থেকে প্রায় ২.৫০ কোটি টাকা মূল্যের জিনিসপত্র লুট হয়েছে এবং ধ্বংস-অগ্নিকাণ্ডের মোট ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে। একই সময়ে দৈনিক স্টারও ২২ ডিসেম্বর একই ধরনের অভিযোগে ৩৫০ থেকে ৪০০ অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যেখানে মোট ক্ষতি প্রায় ৪০ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিক তথ্য অনুযায়ী, দুইটি মামলায় মোট ৩৭ জন ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে দৈনিক স্টারের মামলায় ১১ জন এবং প্রথাম আলোয়ের মামলায় ২৬ জন গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের পর থেকে আদালতে বিভিন্ন রিম্যান্ডের আবেদন করা হয়েছে, তবে আজকের রিম্যান্ডের সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আটজনকে দুই দিনের জন্য সীমাবদ্ধ করেছে।
প্রথাম আলো ও দৈনিক স্টার উভয় সংস্থা এই আক্রমণকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে। উভয় সংস্থাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে যে, আক্রমণের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তদন্ত চলাকালীন এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বর্তমানে তদন্তকারী দল অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে।
আদালতের রেকর্ডে দেখা যায়, রিম্যান্ডের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ বা অতিরিক্ত রিম্যান্ডের আবেদন করা হতে পারে। রিম্যান্ডের সময় সন্দেহভাজনদের বাড়ি বা কারাগারে রাখা হবে, এবং তাদের সঙ্গে আইনগত প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর প্রয়োগের পাশাপাশি, সাইবার নিরাপত্তা আদেশের ধারা অনুসারে ডিজিটাল প্রমাণের সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে আক্রমণের সময় সামাজিক মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ট্রেস অনুসরণ করছে।
প্রথাম আলো ও দৈনিক স্টার উভয়ই ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাগুলো কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের রিম্যান্ডের সিদ্ধান্ত মামলার অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো উভয়ই এই মামলাকে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান করার জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।



