ঢাকা, ৮ জানুয়ারি – মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদল করা যাবে না। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে এ কথা উল্লেখ করে, রাজনৈতিক দলের অভিযোগের ভিত্তিতে রদবদল করা হবে না, বরং ইসির ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জোর দিয়েছেন।
গতকাল একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কিছু ডিসি-র রদবদলের দাবি জানায় এবং এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত চায়। দলটি বলেছে, রদবদল না হলে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে। রশীদ এই দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে বলেন, সরকার রদবদল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তবে ইসি যদি রদবদলের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে, তবে তা বিবেচনা করা হবে।
সচিব রশীদ স্পষ্ট করে বললেন, ইসির মতামত ও সিদ্ধান্তের মর্যাদা এখন বেশি, তাই সরকার তা সম্মান করার চেষ্টা করবে। তিনি যোগ করেন, ইসি যদি রদবদলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়, তখনই সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত কোনো রদবদলের নির্দেশনা জারি হয়নি।
পূর্বে জামায়াতে ইসলামের দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা উচিত। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ করেছিল। বর্তমানে দলটি আবার এসপি-দের ‘দলীয়’ লেবেল দিয়ে সরানোর দাবি তুলেছে এবং জেলা প্রশাসকের বদলও চাচ্ছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এই দাবি উপস্থাপন করে। তাদের মতে, সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনে রদবদল অপরিহার্য। তবে এখন পর্যন্ত ইসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করা বেশ কয়েকজনকে এই বছরের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে নতুনভাবে ৫৫ জন ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে, তবে তাদের যোগ্যতা ও মাঠে অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
রশীদ এইসব প্রশ্নের মুখে আশাবাদ প্রকাশ করে, “ইনশাল্লাহ, আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।” তিনি উল্লেখ করেন, অভিজ্ঞতা সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে এবং সঠিক দিকনির্দেশে কাজ করলে ফলাফল ইতিবাচক হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, ইসির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রদবদল করা হলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। তবে এখনো ইসির কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশিত হয়নি, তাই সরকার রদবদল সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
ভবিষ্যতে ইসির মতামত ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে জেলা প্রশাসকের রদবদল সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতি গঠন হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও ইসির অনুমোদন পাওয়ার পরেই তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।



